ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

আ.লীগের তৃণমূলের প্রত্যাশা: ঐক্য, সুশাসন ও স্বচ্ছতার নিশ্চিতকরণ

২০২৪ জুন ১১ ১৬:৪৬:২০
আ.লীগের তৃণমূলের প্রত্যাশা: ঐক্য, সুশাসন ও স্বচ্ছতার নিশ্চিতকরণ

ওয়াজেদুর রহমান কনক


বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কারামুক্তি দিবসের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে, বিশেষত আওয়ামী লীগের প্রেক্ষিতে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পান (১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পান) এই দিনটি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সেনা সমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কারাগারের থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপোষহীন মনোভাব ও অনড় দাবির মুখে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে দিনটি শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কয়েকটি অব্যক্ত কথার মাধ্যমে তাদের আশা, উদ্বেগ এবং লক্ষ্যগুলি প্রকাশ করে থাকেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দলের ঐক্য এবং সংহতির উপর জোর দেন। তারা চান, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে সবাই একত্রে কাজ করুক। এতে করে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো সহজে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নেতা-কর্মীরা চান সরকার সুশাসন এবং স্বচ্ছতার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিক। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের অনুরোধ থাকে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে এবং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা চান তাদের এলাকার উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিক। সঠিক নীতিমালা ও প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রত্যাশা থাকে, তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা চান দলীয় সংগঠন ও নেতৃত্বের সঠিক মূল্যায়ন হোক। যারা দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং পুরস্কৃত করার আবেদন থাকে তাদের। এতে করে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ে এবং তারা আরও উৎসাহিত হন।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্থ করে তারা চান এই আদর্শ ও চেতনাকে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

এই কথাগুলি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশ্বস্ত করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং আদর্শের প্রতি তাদের অটল আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং দলীয় ঐক্য ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

এ ধরনের বক্তব্য সাধারণত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, দলীয় সভায়, মিছিল-মিটিংয়ে, এবং দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে প্রকাশ পায়। বিশেষ করে, কারামুক্তি দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বা দলীয় কোনো বিশেষ সমাবেশে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই বক্তব্যের সূত্রগুলো হলো:

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা দলীয় সভা এবং সমাবেশে এসব বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরে অনুষ্ঠিত দলীয় সমাবেশে এসব বিষয় আলোচনা হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এবং মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন দাবি এবং উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক নেতা-কর্মী তাদের মতামত এবং বক্তব্য প্রকাশ করেন। ফেসবুক, টুইটার, ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে তারা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

আওয়ামী লীগের দলীয় প্রকাশনা এবং বুলেটিনেও এসব বক্তব্য স্থান পায়। বিভিন্ন সময়ের দলীয় কর্মকাণ্ড এবং পরিকল্পনা নিয়ে লেখা প্রতিবেদনে এসব মনোভাব প্রতিফলিত হয়। তৃণমূলের স্থানীয় পর্যায়ের বৈঠকগুলোতেও এসব মনোভাব প্রকাশ পায়। ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের বৈঠকে নেতা-কর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে বা জনসমক্ষে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করার সময় এই সব উৎস এবং অনুষ্ঠানকে ব্যবহার করেন।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী।