ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

টাঙ্গাইলে ১১৪ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

২০২৪ জুলাই ১০ ১৯:৪৬:১২
টাঙ্গাইলে ১১৪ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও ধলেশ্বরী নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বন্যায় জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর ও বাসাইল উপজেলার ১১৪টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঁধ উপচে ও সড়ক ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেকে নৌকায় বা স্বজনদের বাড়ি ও উঁচু জায়গাতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ দিকে বন্যার কারণে গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকট। চড়া দামে কিনতে হচ্ছে গোখাদ্য। পানি উঠায় জেলার ৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পানির নিচে চলে গেছে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউস ধান, তিল ও সবজি। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।

নাগরপুরের চর সলিমাবাদ গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পান করছেন নদীর পানি। ফলে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি এ সময়ে পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন সহ বিভিন্ন ঔষধের প্রয়োজন রয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের নবীন মিয়া বলেন, ‘আজ ৫ দিন ধরে পানিবন্দি। ঘর থেকে বের হলেই পানি। খাওয়া-দাওয়া খুব কষ্ট। রাতে সাপ বিচ্ছুর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে। কাজকর্মও ঠিকমতো করতে পারছিনা।’

গাবসারা গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, ‘নতুন পানিতে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সবার মাঝে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। খাবার পানির বেশি সমস্যা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইলে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত উপজেলায় দুই হাজার করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ২০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৮শ’ টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পর্যায়ক্রমে বন্যাকবলিতদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।’

(এসএম/এসপি/জুলাই ১০, ২০২৪)