ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পাংশায় বিএনপির অফিস ভাংচুর, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের ওপর হামলা 

২০২৫ এপ্রিল ০৩ ১৮:২৭:২৬
পাংশায় বিএনপির অফিস ভাংচুর, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের ওপর হামলা 

একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশায় বিএনপির দুই গ্রুপের কোন্দলের জের ধরে অফিস ভাঙচুর ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে দক্ষিণ খোর্দ্দবসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আহতদের মধ্যে ১ জন ঢাকা ১ জন ফরিদপুর ও ৫ জন পাংশা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও ২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে রয়েছে।

আহতরা হলেন- কলিমহর ইউনিয়নের তত্তিপুর গ্রামের নুরু ভূঁইয়ার ছেলে আকবর ভূঁইয়া (৪০), বাগ বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত ওমেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মোহন প্রামানিক (৫৫), ফলিমারা গ্রামের আলতাফ শেখের ছেলে জহুরুল শেখ (২৩), একই গ্রামের মো. আরব আলী সরদারের ছেলে মো. খাজা সরদার (৩১), গোপালপুর গ্রামের মনিরুল খানের ছেলে তিয়াস (১৮), খোর্দ্দবসা গ্রামের ছুটি মন্ডলের ছেলে জয়নাল মন্ডল (৬৫) ও হোসেনডাঙ্গা গ্রামের সমশের সেখের ছেলে রিপন সেখ (২৭), হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অরবিন্দু মন্ডলের ছেলে অমিত মন্ডল (২০), গোপালপুর গ্রামের মজিবরের ছেলে শিমুল (২৫)।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কলিমহর ইউনিয়নে বিএনপির বর্তমান ও সাবেক কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্ত কোন্দল চলমান রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে ইউনিয়নের দক্ষিণ খোর্দ্দবসা এলাকায় ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিসে ভাঙচুর চালায়। এই সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার বিশ্বাসের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জয়নাল মন্ডল জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ তাদের গ্রুপের লোকজন আমাদের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে আমরা অফিস দেখতে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের কাছে থাকা হাতুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ফালা, রামদা, বেঁকি, টেটাসহ দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, আহতরা সকলেই আমার কর্মী সমর্থক। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আমার বিপরীত গ্রুপের নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে ৮০-৯০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা প্রথমে ৭ নং ওয়াড বিএনপির অফিস ভাঙচুর চালায় পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের আহত করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে একটি ঝমেলা চলছিলো। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের মনো, বিল্লালসহ বিধানের লোকজন কালাম মেম্বারের দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪-৫ জনকে ধরা হয়। পরে আমি তাদেরকে গ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। আমি শুধু হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলাম।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ারুল ইসলাম মুরাদ মিয়া বলেন, প্রথমে হামলা কারীরা কলিমহর বাজারে ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করতে আসে। সেখানে বাধা দেওয়া হলে ৭ নং ওয়ার্ডের অফিস ভাঙচুর করেছে। সেখানে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, নাসিরুল হক সাবুসহ নেতাদের ছবি ভাংচুর করে উল্লাস করেছে।

পাংশা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে।

(একে/এসপি/এপ্রিল ০৩, ২০২৫)