প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
সালথায় কুমার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে সড়ক ও ব্রীজ
২০২৫ এপ্রিল ০৩ ১৮:৩৫:২২
সালথা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় প্রশাসনের অভিযান চালানোর পরেও কুমার নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদী থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়াও যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া বাজার সংলগ্ন কুমার নদীতে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে নদীর দুই পাড়ে থাকা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়ক ও ব্রীজ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় সড়ক ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদীর মাঝখানে একটি ডাবল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন এক বালু ব্যবসায়ী। তিনি রসুলপুর-সালথা সড়ক ও রসুলপুর-মাদরাসা গট্টি সড়ক ছিদ্র করে পাইপ বসিয়েছেন। এতে সড়ক দুটিতে ফাটল ধরেছে।
অপরদিকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড় ভেঙে পানি ধুয়ে যাচ্ছে। পাশেই বড়দিয়া বাজার এলাকায় কুমার নদের মাঝে আরো দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো দেখা যায়। যদিও মেশিন দুটি বন্ধ ছিল। তবে ওই দুটি মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদে পাড় ভেঙে রয়েছে।
এছাড়াও যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া বাজার সংলগ্ন কুমার নদীতে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দেয় এবং দুজনকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। কিন্তু অভিযানের পরেও আবার ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এমনকি রসুলপুর বাজারের সেতু ও খারদিয়া বাজারের সেতুটি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ড্রেজারটি সেতুর পাশেই বসানো হয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবী জানান তারা।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, কুমার নদীতে কয়েকদিন আগে অভিযান চালানো হয়েছে। আবারও কেউ যদি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে থাকে, তাহলে আবারও অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরো বলেন, উপজেলার কোথাও অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
(এএন/এসপি/এপ্রিল ০৩, ২০২৫)