ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সুবর্ণচরে ২ হাত ভেঙ্গে জিন্দা কবর দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ 

২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১৮:৩৭:২৫
সুবর্ণচরে ২ হাত ভেঙ্গে জিন্দা কবর দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ 

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী : নোয়াখালী সুবর্ণচরে জায়গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঝামেলা মিটিয়ে দেবার জন্য দাবীকৃত ৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে ২ হাত এবং পা ভেঙ্গে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। শুধু তাই নয় ঐ বৃদ্ধকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে জিন্দা কবর দেয়ার চেষ্টাও করা হয়, পরে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে ঐ বৃদ্ধাকে তার বাড়ির সামনে অজ্ঞান অবস্থায় পেলে রেখে চলে যায় তারা এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড পূব চরজব্বর গ্রামের সেকান্তর মিয়ার বাড়ির সামনে।

চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের মৃত ওসমান গনীর পুত্র বৃদ্ধ আল আমি (৬৫) ওরপে আল আমিন হুজুর বলেন, বিগত কয়েকমাস ধরে প্রতিবেশী একই গ্রামের মৃত মনসুর আহমেদের পুত্র বেচু মিয়া (২৩) সাথে জায়গায় জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো গত মাসে বেচু মিয়া আমার জায়গায় ওপর রোপন করা গাছপালা কেটে পেলে এতে আমি তাদের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করি।

পরে বেচু মিয়া তার ভাড়া করা স্থানীয় আবু কালামের পুত্র কৃষকদল নেতা মুরাদ (২৫), ডাক্তার নুরুল আমিনের পুত্র নজরুল ইসলাম রাসেল (৩০), আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ঐ টাকা দিয়ে দিলে তারা আর কোন ঝামেলা করবেনা এবং ধন্ধের বিষয়টি মিটমাট করে দিবে মর্মে বললে আমি তাদেরকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করি পরে তারা ৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। এর পর বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে বাকি টাকা চাইতে থাকে এবং টাকা না দিলে বাড়ি ঘর, জায়গা জমি দখল করে এলাকা ছাড়া করবে মর্মে হুমকি ধমকি দিতে থাকে।

৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় আমি আমার ক্রয়কৃত উক্ত জায়গায় গেলে কিছুক্ষণ পর বেচু মিয়ার নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম রাসেল, মুরাদ, একই এলাকার রাজু (৩০), ডাক্তার নুরুল আমিন (৬০), আবু কালাম (৫০) এসে উপস্থিত হয় পরে রাসেল মুরাদ আমার কাছে টাকা দাবী করলে আমি দিতে অস্বীকার করলে তাদের সাথে নিয়ে আসা লোহার রড়, কাঠ, সহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে আমাকে পিটিয়ে আমার ২ হাত এক পা ভে দেয়। তাদের মারধরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা আমাকে জীবন্ত কবর দেয়ার চেষ্টা করে এ ঘটনায় এলাকার লোকজন বাঁধা দিলে তারা আমাকে অন্যত্র নিয়ে যাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমার বাড়ীর সামনে আমাকে মুমুর্ষ অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরে আমার পরিবার আমাকে এম্বুলেন্স যোগে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পরে এক্সরে করে দেখা যায় আমার দু হাত ভেঙ্গা এবং এক পায়ে মারাত্মক ইনজুরি হয়েছে। আমি উক্ত ঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম রাসেল ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তার হাত পা সে নিজে ভেঙ্গেছে। অন্যদের মুঠো ফোনে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্বব হয়নি।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার কল দিয়েও না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্বব হয়নি। এমন নেক্কার জনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রতিবাদের ঝড়।

(এস/এসপি/ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫)