ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

বর্ণবাদের বিভীষিকা তুলে ধরে বিদায় বললেন উসমান খাজা

২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৩:২৭:০৬
বর্ণবাদের বিভীষিকা তুলে ধরে বিদায় বললেন উসমান খাজা

স্পোর্টস ডেস্ক : অবসরের ঘোষণা দিতে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন উসমান খাজা। তবে সেটি শুধু বিদায়ী বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার সেই সংবাদ সম্মেলনে অ্যাশেজ চলাকালে পাওয়া সমালোচনা এবং সেটির সঙ্গে নিজের বর্ণগত পরিচয়ের যোগসূত্র নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

পার্থ টেস্টের আগে গলফ খেলাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন খাজা।
ওই সময় পিঠের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। খাজা বলেন, সেই সমালোচনা তার কাছে ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়ে উঠেছিল।

তার ভাষায়, ‘আমার পিঠে ব্যথা ছিল, যেটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু যেভাবে মিডিয়া আর সাবেক ক্রিকেটাররা আমার ওপর আক্রমণ করেছে, সেটা আমি এক-দুদিন নয়, টানা পাঁচ দিন সহ্য করেছি। অথচ সেটা আমার পারফরম্যান্স নিয়েও ছিল না।’

তার দাবি, সমালোচনার মূল বিষয় ছিল তার প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা, ‘বলা হচ্ছিল আমি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, আমি স্বার্থপর, আমি যথেষ্ট অনুশীলন করি না, আমি অলস। এগুলো সেই একই বর্ণগত স্টেরিওটাইপ, যেগুলোর সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি।’

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া খাজা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলা প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় দলে খেললেও নিজেকে সবসময় কিছুটা আলাদা মনে হয়েছে।

খাজা বলেন, ‘আমি সবসময়ই একটু আলাদা অনুভব করেছি। আমি একজন রঙিন চামড়ার ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ান দল আমাদের গর্বের জায়গা। কিন্তু আচরণে অনেক সময় মনে হয়েছে, আমাকে অন্যদের মতো দেখা হয় না।


তিনি আরও বলেন, একই কাজ অন্য ক্রিকেটাররা করলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না, ‘অনেক ক্রিকেটারকে দেখেছি ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলেছে বা চোট পেয়েছে, তখন কেউ কিছু বলেনি। এমনকি এমন খেলোয়াড়ও আছে যারা আগের রাতে অনেক মদ্যপান করেছে, তবু কিছু বলা হয়নি। তখন বলা হয়, ওরা তো অজি ল্যারিকিন। কিন্তু আমার বেলায় বিষয়টা আলাদা হয়ে যায়।’

খাজা জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে, যদিও তিনি তা করতে চাননি, ‘আমি চাইনি এসব কথা বলতে। কিন্তু পরের উসমান খাজার জন্য পথটা যেন সহজ হয়, সেটাই চাই। তাকে বা তাকে যেন একইভাবে দেখা হয়, বর্ণগত ধারণা দিয়ে বিচার করা না হয়।’

আগের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন খাজা। শেফিল্ড শিল্ডের শেষ রাউন্ডে চোটের কারণে খেলতে না পেরে তিনি অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি দেখতে গিয়েছিলেন, সেটিও সমালোচনার জন্ম দেয়।

‘আমি একটি ম্যাচ মিস করায় সমালোচিত হয়েছি, অথচ আমার অনেক সতীর্থ খেলেনি, তাদের নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। তখনই বুঝেছি, আমি অনেক দিন ধরেই এসবের মুখোমুখি হচ্ছি,’ বলেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের কথাও স্মরণ করেন খাজা, ‘২৫ বছর বয়সে আমি দলের সঙ্গে মিশতে অনেক চেষ্টা করেছি। সবার মতো পোশাক পরতাম, ক্লাবে যেতাম, যদিও আমি মদ্যপান করতাম না। তবুও আমাকে বাদ পড়তে হয়েছে। তখন বুঝেছি, আমার নাম জন স্মিথ নয়। ৫০-৫০ সিদ্ধান্তে সুবিধাটা আমার পক্ষে আসে না।’

তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তনও এসেছে বলে মনে করেন খাজা, ‘আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে বাস করছি। কিন্তু এখনও কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে আমাকে লড়তে হয়। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এখনো অনেকটাই শ্বেতাঙ্গনির্ভর। পরিবর্তন আসতে সময় লাগবে, তবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ০২, ২০২৬)