ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

অপহরণের পর কিশোরকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৯:১৮:১২
অপহরণের পর কিশোরকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ওসমান হায়দার রণি নামের এক কিশোরকে অপহরণের পর কয়েক দফায় লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাতটার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আটশতবিঘা ব্রীজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

অপহৃত ওসমান হায়দার রনি (১৮) সাতক্ষীরা শহরের কামাননগরের আব্দুল হালিমের ছেলে। সে বর্তমানে দেবহাটার চালতেতলায় থাকতো।

আব্দুল হালিম জানান, তার ছেলে ওসমান হায়দার রণি বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সন্ন্যাসীর চক থেকে বের হয়ে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলে গাজীরহাটে যাচ্ছিল। রাত সাতটার দিকে সে আটশত বিঘা ব্রীজের কাছে পৌঁছালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বত্বহীন হওয়ায় খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা জমির এক সময়কার মালিকানা দাবিদার আইডিয়ালের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ নজরুল, আব্দুল আজিজ, শিমুলিয়ার সুরুজ কাজী, কাজী গোলাম ওয়ারেশ এর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য চালতেতলার কালু ডাকাতের ছেলে মোস্তাকিম, রামনাথপুরের আব্দুল আলীম, বাবুরাবাদের রহুল আমিনের ছেলে আলমগীর ও মহরমসহ কয়েকজন তাকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে তাদের ব্যবহৃত মটর সাইকেলে তোলে। পরে তাকে চালতেতলা পাকা বাসার সামনে প্রথম দফায় হাত ও পা বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে সুরুজ কাজীর বাসায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করা হয়। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তিনি বিষয়টি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করেন। একপর্যায়ে দেবাহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানতে পেরে বিভিন্ন স্থানে রনিকে খুঁজতে থাকেন। রনিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সখীপুর হাসপাতালের সামনে রাত ১টার দিকে কে বা কারা ফেলে গেছে মর্মে তাকে অবহিত করে মর্মে তাকে জানান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সখীপুর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আবু হাসান জানান, প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে তাকে ভর্তি করা হয় রাস ১২টার পর। পরবতীতে তার পরিচয় জানা যায়। রনির শরীরের হাত, পা, উরু, পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ শাহীনুর রহমান জানান, জনির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে রনিকে বৃহষ্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালানো হয়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাকে মোবাাইল ফোনে রনিকে গনপিটুনি দিয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ফেলে গেছে বলে তাকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রি কোর্টের প্রধান বিচারপতি খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা জমি লাওয়ারিশ ঘোষনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। ওই জমিতে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ না করার জন্য স্টাসকো থাকার পরও কখনো নলতা চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূমিহীনদের একাংশকে(আনারুল, রবিউল, আব্দুল হালিম, রফিকুলসহ ২৩ জন) হাতে নিয়ে ওই জমি জবরদখল করে মাছ লুটপাট করেছেন। দফায় দফায় ভূমিহীনদের একটি গ্রুপের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় ভূমিহীন নেতা কামরুল ইসলাম ২০২৪ সালের পহেলা নভেম্বর নিহত হন।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ ১৬৮/২০২১ মামলায় পরাজিত জমির মালিক দাবিদাররা (ডাঃ নজরুল, সুরুজ কাজী, আব্দুল আজিজ,) আনারুল ও রবিউল বাহিনীর হাতে নির্যাতিত ভূমিহীনদের অপর অংশ বাবুরাবাদের আকরাম, নাংলার গফুর, চালতেতলার কালু ডাকাত, খলিষাখালির সাইফুল, পলগাদার মকরেম শেখকে তিনশত বিঘা জমি ছেড়ে দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় ২০২৫ সালের আগষ্ট মাসে ওই জমি দখলে নেয়। এরপর থেকে রবিউল ও আনারুল গ্রুপের উপর কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়। আব্দুল করিমসহ দুইজনকে অস্ত্র দিয়ে মামলায় আদালতে চালান দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রনিকে অপহরণ করে নির্যাতন চালনো হয়।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ০২, ২০২৬)