প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৫৫:০৬
সোহেল সাশ্রু, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় ঝুমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভুল চিকিৎসার ঘটনাটি ঘটে পৌর শহরের ট্রমা এ- জেনারেল হাসাপাতালে। এ ঘটনায় হাসপাতাল পাহাড়া দিচ্ছে ভৈরব থানার পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা নিচ্ছেন মামলার প্রস্তুতি। ঝুমার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নিহত ঝুমা বেগম পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে ও উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকার তৌফিক মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে কমলপুর এলাকায় ট্রমা এ- জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় ঝুমা বেগমকে। ওইদিন রাত ৭টায় গৃহবধূকে সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. হরিপদ সাহা ও এনেস্থিসিয়া দেন ডা. রাজিব। অপারেশনে ঝুমা বেগমের ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান হয়।
অপারেশনের পর রাত ১০টা পর্যন্ত ঝুমা বেগম মোটামুটি ভাল থাকার পর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অবস্থা অবনতি হতে থাকে। সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়ার পরও রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে ২ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ঝুমা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে চিকিৎসক। চিকিৎসকের চাপে ঝুমা বেগমকে ঢাকায় নেয়ার পর ৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে রোগীর চাচা রাশেদ মিয়া জানান, আমার ভাতিজিকে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমরা বলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অপারেশন করা জন্য। কিন্তু চিকিৎসক ডা. হরিপদ বলেন পরীক্ষা লাগবে না। বৃহস্পতিবার রাতে অপারেশন করার কয়েক ঘণ্টা পর ঝুমার অবস্থা খারাপ হয়। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান রক্ত লাগবে। সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হলেও ঝুমার কোন উন্নতি হয়নি। পরদিন শুক্রবার সকালে চিকিৎসক জানান রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে। আমরা অস্বীকৃতি জানালে আমাদের রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাপ দেন। আমরা বলেছি আমাদের রোগীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন আমরা রোগী ঢাকায় নিবো না। চিকিৎসকের চাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার বলে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা কম। তারপরও আমরা সঠিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করি। শনিবার বেলা ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমা মৃত্যু বরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, আমি ভৈরবের চিকিৎসককে মৃত্যুর কথা জানালে তিনি বিষয়টি আপোষ করতে বলেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কামনা করি। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নিহতের শাশুড়ী রিনা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূকে ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ভৈরবের ডাক্তার সিজার করতে গিয়ে ঝুমার জরায়ু কেটে ফেলেছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। এজন্য ঝুমার মৃত্যু হয়েছে। আমরা শিশুটিকে কিভাবে মানুষ করবো। আমি ঝুমা হত্যাকারীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে ট্রমা এ- জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ঝুমাকে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছিলেন ডা. হরিপদ সাহা। অপারেশনের পর মা বাচ্চা অনেক ভাল ছিল। অপারেশনের পর রাতে হঠাৎ ঝুমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আমাদের ডাক্তারগণ রক্ত দেয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। শুক্রবার সকালে আবারো রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসক রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। রোগীর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে শুনতে পায় ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক হরিপদ সাহা একজন দক্ষ চিকিৎসক। ওইদিন তিনি ঝুমাসহ তিনটি অপারেশন করেন। তিনজনের অপারেশন সফল হয়েছিল। ঝুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ভুল চিকিৎসায় ছিল না। ঝুমা শারীরিক ভাবেই দুর্বল ছিল। থানা থেকে পুলিশকে হাসপাতালে আনা হয়েছে যেন কোন রকম অপ্রীতিকর কোন ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ডা. হরিপদ সাহার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন সাড়া শব্দ করেনি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রোগীর মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডা. হরিপদ ও ট্রমা এ- জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অনেক রয়েছে। তাছাড়া ডা. হরিপদ সাহা নিজ বাসার নিচতলায় তিনি অবৈধভাবে সরকারি কোন অনুমোদন ছাড়াই রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ডা. হরিপদ সাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
(এসএস/এসপি/জানুয়ারি ০৩, ২০২৬)
