প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৯:৪৫:০৫
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের এক পিয়ন, একটি প্রাইভেট কারের চালক ও গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৪ জানুয়ারি দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরএ তথ্য জানানো হয়েছে। দন্ডবিধির ৪০৯,১৬১,১৬২ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সলের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি দুদকের মামলা নম্বর–১ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০), প্রাইভেট কার চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইনস মোড়ে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা দুটি ব্যাগ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একটি ব্যাগে ‘সার্কেল’ লেখা সাত লাখ টাকা এবং অন্য ব্যাগে ‘জোন’ লেখা তিন লাখ টাকা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িতে থাকা পিয়ন মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথা বললে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় পুলিশের।
পরে পুলিশ গাড়ি ও টাকা জব্দ করে পিয়ন ও চালককে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, উদ্ধার করা টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল।
এরপর পুলিশ সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে ১৮ ডিসেম্বর ওই তিনজনকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠায়। দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমতির জন্য ৪ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হলে আদালত ওই তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমোদন দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্র অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেল ও জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। টাকার খামের ওপর ‘সার্কেল’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, আটক ব্যক্তিরা মূলত টাকা বহনকারী ছিলেন। তবে যাঁদের উদ্দেশ্যে টাকা আনা হয়েছিল, তাঁরা কেন আইনের আওতায় আসছেন না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর সহ ৫ জেলার সড়ক বিভাগ গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সার্কেলের অধীনে পরিচালিত হয়।
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ০৬, ২০২৬)
