ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

শনিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত চায় আইসিসি

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৩:১৯:৪৩
শনিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত চায় আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনা আরও স্পষ্ট রূপ নিচ্ছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না, সে বিষয়ে আগামী শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানায় টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবিকে জানান, টুর্নামেন্ট চলাকালীন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া মাসব্যাপী এই আসরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছে না বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৈঠকের পর বিসিবি জানায়, আইসিসি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবিকে জানানো হয়েছে যে সদস্যদের মধ্যে স্বাক্ষরিত মেম্বার্স প্লেয়িং অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতেই খেলতে বাধ্য। এই চুক্তি লঙ্ঘন করলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যা আইসিসির টুর্নামেন্টে নতুন নয়।

তবে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের কোনো আলটিমেটাম পাওয়ার কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে।

বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তারা এখনও আইসিসিকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যাতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। তার দাবি, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আইসিসি এখনো পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি।

আইসিসির চিঠি পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন আসিফ নজরুল।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, ভারতীয় পরিবেশে খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল নয়; এই বার্তাই আবারও আইসিসিকে জানাবে বিসিবি।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইসিসি বাংলাদেশের পূর্ণ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিসিবির মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিসিবি আরও জানায়, আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হুমকি বা পয়েন্ট কেটে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। বোর্ড গঠনমূলক ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যাতে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়।

আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসির পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। তিনি জানান, নতুন করে আইসিসিকে চিঠি পাঠানো হবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। ভারতে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে সেখানে খেলতে যাওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের উদ্বেগ কেবল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ভ্রমণকারী মিডিয়া, স্পনসর এবং ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকারী নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বিসিবি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায়। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের পরই জরুরি বৈঠক ডেকে আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানায় বিসিবি।

এর আগে বিসিবি আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল, বাংলাদেশি খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, বোর্ড সদস্য ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আগের করা চুক্তির ভিত্তিতে। তবে আইসিসির মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে বিসিবির সামনে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে তিনটি হওয়ার কথা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি মুম্বাইয়ে। গ্রুপ সিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি নেপাল ও ইতালি।

আইসিসি চায়, এই সপ্তাহের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হোক, যাতে শেষ মুহূর্তে লজিস্টিক জটিলতা তৈরি না হয়।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ০৮, ২০২৬)