ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

মহম্মদপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৭:৫৭:৩৭
মহম্মদপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

মহম্মদপুর প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসব-ঐতিহ্যবাহী বড়রিয়ার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলা। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মেলা বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা ২৮শে পৌষ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলা ১৩৩-তম বছরের প্রাচীন মেলা।আজ সোমবার আয়োজিত এ মেলা হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়রিয়া গ্রামের সানু সরদার নামের এক ব্যক্তি এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলার প্রবর্তন করেন।

তিনি পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার বাহারবাগ গ্রামে অনুষ্ঠিত এক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। একবার তার ঘোড়াকে পরাজিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজ এলাকায় ফিরে এসে একই দিনে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সেই থেকেই বড়রিয়ায় শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা আজও স্বমহিমায় টিকে আছে।

মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার দুপুর থেকে উপজেলার কানাবিল মাঠে,দবিরের বাড়ির সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পথে। ঘোড়ার খুরের ঝনঝনানি ও দর্শকদের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত দক্ষ সওয়ারিরা সুসজ্জিত ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ধুলো উড়িয়ে ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলা ঘোড়াগুলোর দৌড় উপভোগ করতে হাজার হাজার দর্শক করতালিতে ফেটে পড়েন। এ বছর মোট ২৩টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মোঃ শাহজাহান সরদার।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে যশোরের বাঘারপাড়ার টুটুলের ঘোড়া, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে নড়াইলের লোহাগড়ার মমিন আলীর ঘোড়া এবং তৃতীয় হয় যশোরের বাবর আলীর ঘোড়া।

মেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, এটি যেন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের এক বিশাল প্রদর্শনী। মেলায় মাটির হাড়ি-পাতিল, পুতুল, কাঠের আসবাবপত্র, কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্রসহ নানা ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর পসরা বসে। মিষ্টির দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।পাশাপাশি নারীদের প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, বাঁশি ও মাটির ব্যাংক বিক্রিতে জমে ওঠে বেচাকেনা। শিশুদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নাগরদোলা, খেলনা রেল, বায়োস্কোপ ও চরকা।

এছাড়া মাছ, মাংস, বাঁশ ও কাঠের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফার্নিচার বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মেলাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

এই মেলা শুধু কেনাবেচার আয়োজন নয়,বরং এটি এলাকাবাসীর আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য উপলক্ষ। মেলা উপলক্ষে বড়রিয়াসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের ঘরে ঘরে জামাই-ঝি ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের আমন্ত্রণ জানানো হয়। চলে পিঠা-পুলির উৎসব। মেলাটি তিন দিন চলবে বলে জানা গেছে।

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

(বিএস/এসপি/জানুয়ারি ১৩, ২০২৬)