প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত
‘পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষ উদ্দেশ্যমূলক’
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০০:৪৬:৫৩
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়, যা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। তাই এখনো যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়নি সেগুলোতে সংশোধন চাইল বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা ভোটার হয়েছেন এবং তারা নির্বাচনে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।
তাদের কাছে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যালট পেপারে কেউ মনে করতে পারেন ঘটনাক্রমে। কিন্তু আমরা বলি, খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাঁজ করলে কাগজটা এটা ভালো করে নজরেই পড়বে না।
আমরা এই নিয়ে কথা বলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের কথায় মনে হয়েছে যে, তারা বিষয়টি ঠিক ওভাবে খেয়াল করেন নাই।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তাদের বলেছি যে, আপনারা এখানে পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন, যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ রাজনৈতিক দল, তাদের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয়ে ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো, ১৪টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো, তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এভাবে সাজানোর সুযোগ ছিল না।
কাজেই ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। কমিশনের নজরে না পড়লেও যারা আসলে ভেতরে কাজটা করেছেন, সম্ভবত তারা এটা কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই করেছেন।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি যে, বিদেশে যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে, সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয় নাই। আমরা তাদের পরিষ্কার বলেছি, এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়।
এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি তাদের যে, এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এটা কিছু ত্রুটি হচ্ছে। আমরা দেখি যে, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অনেকগুলি ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করছে।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য শুনে কমিশন জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বাহরাইনের গভমেন্টের কাছ থেকে যেটা এসেছে—স্বীকার করা হয়েছে যে, হ্যাঁ, এরকম একটা ঘটনা তারা জেনেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আরো তদন্ত করে তারা রিপোর্ট দেবেন এবং সেই অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা বলেছি তাদের বিরুদ্ধে যেন আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছ থেবে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার আইডি কার্ড, তাদের এনআইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটে নাই। আর আসলে এটার কোনো প্রয়োজনও নাই। কিন্তু তারপরও যে করা হচ্ছে এটা তো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে তাদের দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার একটা ব্যাপার আছে এবং তাদের বিকাশে কিছু অর্থ করে লেনদেনেরও সম্ভাবনা আছে। আমরা এই ব্যাপারে তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতার উত্তরবঙ্গ সফর ব্যক্তিগত ছিল। তারপরও নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করেছিল এই সফরটা স্থগিত করার জন্য। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিবেচনা করে অনুরোধ রক্ষা করেছিলাম। আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ড ঠিক রাখার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের নেতা রাস্তায় বের হলে হাজার হাজার লোক হবে। এটা আমাদের কোনো দোষ না। এবং এটা হলেই কেউ কেউ কষ্ট পায়। কেউ কেউ মনে করে যে, এটা নির্বাচনের প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সে কারণে আমরা কিন্তু ওনাকে কোনো প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য আর বলছি না। উনিও যাচ্ছেন না। ২২ জানুয়ারি থেকেই প্রচার শুরু হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তারা কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করছেন, তাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন, তাদের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। কিন্তু এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের কাছে নাই।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইতোমধ্যে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। কাজেই এটা তো কনসার্ন। আমাদেরও বেশ কিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের। তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে, নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নাই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে, কোনো কারণেই সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
(ওএস/এএস/জানুয়ারি ১৪, ২০২৬)
