প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ধামরাইয়ে পৌষ সংক্রান্তি ও বুড়ির পূজা উপলক্ষে ৩ দিনের মেলা
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ০০:২৬:১৬
দীপক চন্দ্র পাল, ধামরাই : শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে ধামরাইয়ে শীতের মৌসুমে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ির উরানো ও বুড়ির পূজা উৎসব ,ঘুড়ি উড়ানো অনূষ্টিত হয় সকাল থেকে।
এ উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী মেলা বসেছে ধামরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাজারো ভক্ত দর্শনার্থীদের ভীড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠেছে এই বুড়ির মেলা। আগামী কাল রাতে শেষ হবে এ মেলা উৎসব।
আগত ক্রেতারা কিনছে তাদের প্রয়োজনীয় গ্রামীন মেলায় আসা বিভিন্ন সামগ্রী। পৌষ সংক্রান্তির বৈশিষ্ঠ চিনির তৈরীবিভিন্ন খেলনায়। শিশু-কিশোর আর সকল বয়সের নারী পূরুষের ভীড়ে কোলাহল মূখর হয়ে উঠে মেলাঙ্গন। দুপুর থেকে রাত অবদি মেলায় চলে বেচাবিক্রি।
গ্রামীন জনপদের এই মেলায় বসেছে খই,বিন্নি, বাতাসা, চিনির তৈরীর খেলনা, দই মিষ্টির দোকান, ভাজা পেয়াজো, চানাচুর, বাদাম, মাটির তৈজষপত্র, বাশ বেতের তৈজষ পত্র, চটপটির ষ্টল, শীতের পুরান বস্ত্রের দোকানও বসেছিল মেলায়।
গৃহস্থালীর প্রয়োজনে মাটির তৈরী জিনিষ পত্র ক্রয়ে ভীড় জমিয়েছিল সব বয়সের নারীরা।ধর্মীয় গন্ডির মধ্যে পুজা উৎসব হলেও মেলায় সার্বজনিনতা ফুটে উঠেছে।
ঢাকার ধামরাইয়ের ১১টি স্থানে পৌষ সংক্রান্তি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বুড়ির পূজা উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী মেলা বুধবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার বার রাত অবদি চলবে। উৎসবব মুখরতা আজো আছে ধামরাই পৌর সদরের বটতলা সহ পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বুড়ির মেলা ও সারা ধামরাইয়ের কালামপুর, সোমভাগ, সানোড়া, গোপালপুর, হাজিপুর, বাড়িগাও, সীতিপাল্লী, পৌর এলাকার যাত্রাবাড়ি মাঠেসহ বিভিন্ন স্থানে জমেছিল।
এ মেলা শুধু ধর্মীয় চেতনায় অনুষ্ঠিত হলেও এখন হিন্দু সম্প্রদায়েরই নয়, এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারো ,সব চেয়ে বৃহৎ আয়োজন ধামরাই পৌর সদরের বটতলা,কায়েৎ পাড়া বুড়ির মন্দির প্রাঙ্গনে। ধামরাই পৌর এলাকার বট তলায় আয়োজিত এই বুড়ির মেলার ইতিহাস প্রায় তিন শত বছরের পুরোনো। তবে কয়েক বছর আগেই বট গাছটি কেটে ফেলেছেন সাবেক ধামরাই পৌর মেয়র দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু ।পুর্বের নামই বহাল আছে আজো।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মীয় প্রার্থনা আর পূজার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের গৃহবধুরা। উপবাস থেকে সকালে স্নানকার্য শেরে ফল বাতাসা মিষ্টি আর আতব চাল ,দুধ ঘি,মধু ফুল-ফল নিয়ে মন্দিরে ঢালা সাজিয়ে পূজায় অংশ নেয়।
মেলাঙ্গনে নাগর দোলার কড় কড় শব্দে মাতিয়েছে শিশু-কিশোর দের। গ্রামীন এ মেলায় কামার,কুমার শিল্পের তৈরী জিনিষ পত্রের দোকান সহ নানান ধরনে দোকান বসেছে। ভীড়ের কারনে যান বাহন চলাচল থমকে যায়, সৃষ্টি হয় যাজটের।
বুড়ির মন্দির কমিরি ননী গোপাল সন্ডল বলেন, বটতলার এই মন্দিরটি প্রায় তিন শত বছর পুর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানেই ধামরাইয়ের বৃহৎ একটি বট গাছ ছিল । সেই গাছটি কেটে ফেলেছে।এখন ঐতিহ্য বাহী সেই বট গাছটি না থাকলেও পাকা মন্দির ওতার উৎসব চলছে।
(ডিসিপি/এএস/জানুয়ারি ১৬, ২০২৬)
