প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় বিপাকে ভোক্তারা
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৯:১১:৪১
হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ : আমনের ভরা মৌসুমে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের চালের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
চালকল মালিকরা বলছেন, হঠাৎ করে ধানের দাম মণ প্রতি বেড়েছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা। ফলে ধানের দাম সামান্য কিছু বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতা বলছেন, চালকল মালিক ও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়াচ্ছে।
জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে ঝিনাইদহের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চালের দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৭ টাকায়। কাজললতা ৬২ থেকে ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকায়। আর সরু চাল মিনিকেট ৭২ টাকা থেকে এখন ৭৮ টাকা। আর বাসমতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। যা আগে বিক্রি হয়েছিল ৮৫ থেকে ৮৮ টাকায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের মেছুয়া বাজার, বাঘা যতীন সড়ক, নতুন হাটখোলা ও ওয়াপদা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এছাড়া কাজলতা ৬৮, অঠাশ ৭০, মিনিকেট আকারভেদে ৭৪ ও বাসমতি চাল আকারভেদে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মেছুয়া বাজারে চাল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরজীবি আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে চাল ৭০ টাকায় কিনেছিলাম তা এখন ৭৪ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। সরকার অনেক জায়গায় অভিযান চালচ্ছে। তবে চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাতে দেখছি না।’
আরেক চাল ক্রেতা ইয়াকুব মন্ডল বলেন, ‘আগের চেয়ে কেজি প্রতি ৭ টাকা বেশি দামে চাল কিনলাম। ব্যবসায়ীরা তাঁদের খেয়াল খুশি মত চালের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন এখন পর্যন্ত এদিকে কোনো নজর দিচ্ছে না।’
নতুন হাটখোলা বাজারের চাল ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কোনো নির্দেশনা ছাড়াই এক সপ্তাহ আগে মোটা সব ধরণের চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে চালকল মালিকরা। তাঁরা সিন্ডিকেট করে যখন যা ইচ্ছে তাই করে। এজন্য ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের বিবাদে জড়াতে হচ্ছে।’
হামদহ এলাকার মুদি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আড়ত থেকে বেশি দামে চাল কিনে এনে আগের মত বিক্রি করতে পারছি না। আমাদের কাছে থেকে সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষেরা চাল কেনে। কয়েকদিন ধরে চাল বিক্রি অনেক কমে গেছে।’
সদর উপজেলার হাটগোপালপুর এলাকার শুভ অ্যাগ্রো প্রগতি অটো রাইস মিলের মালিক তপন কুমার বলেন, ‘হঠাৎ করে ধানের দাম যেভাবে বাড়ছে সে তুলনায় চালে দাম বাড়েনি। তবুও কয়েক প্রজাতির চালের দাম কেজি প্রতি খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে।’
জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম বেশ বেড়েছে। ফলে চাল ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা আগের দামে দিতে পারছি না। ফলে আকারভেদে চালের দাম অল্প কিছু বেড়েছে। আমাদের এখানে অবৈধ মজুদদার ও সিন্ডিকেট নেই। স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী চালের দাম বেড়েছে।’
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদদারদের সন্ধান পেলেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় ১৬ টি অটো রাইস মিলসহ মোট ২৭০টি চালকল রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হয়।
(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১৬, ২০২৬)
