প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
‘ফেব্রুয়ারির শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হবে’
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৯:১১:৫৪
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং সম্পন্ন করা হবে। আজ রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরবর্তী মাস মার্চে এই ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
এর আগে শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিনিধি দলটি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা ট্রেনিং সেন্টার, মেইন কন্ট্রোল রুম, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার সিস্টেম ও কুলিং টাওয়ার পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কারিগরি অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটমের কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মার্চের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে সেখান থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-১ থেকে কার্যকরভাবে প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎখাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ সময় তিনি প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
(এসকেকে/এসপি/জানুয়ারি ১৮, ২০২৬)
