ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

কালিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ

একই পরিবারের আটজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম, লুটপাট শেষে বাড়িঘর ভাঙচুর

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৯:১১:৪২
একই পরিবারের আটজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম, লুটপাট শেষে বাড়িঘর ভাঙচুর

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন নারীসহ একই পরিবারের আটজনকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

হামলায় আহতরা হলেন, পূর্ব নলতা গ্রামের ইমান আলী মোল্লার ছেলে আজগার হোসেন মোল্লা, তার ভাই আমজাদ হোসেন মোল্লা, শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা ওরফে রাজু, রেজাউল ইসলাম, আমজাদ মোল্লার স্ত্রী শাকিলা বেগম, শাহাদাৎ মোল্লার স্ত্রী চায়না বেগম, আজগার মোল্লার স্ত্রী রুবিয়া বেগম. ও ইমান আলীর স্ত্রী ফজিলা খাতুন। এদের মধ্যে আজগার মোল্লা, শাহাদাৎ হোসেন ও রেজাউল মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে হামলাকারিরা আব্দুল মজিদ গাজীকে প্রতিপক্ষ আমজাদ আলীও তাদের স্বজনরা কুপিয়ে হত্যা করেছে এমন প্রচার দেওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজগার আলীসহ তার চার ভাইয়ের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায় মনিরুদ্দিন গাজী, তার ছেলে মাসুদসহ তাদের ভাড়াটিয়া বাহিনীর শতাধিক সদস্য। খবর পেয়ে ছুঁটে আসে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ ও সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজগার আলী মোল্লা জানান, তাদের শরীক ওয়াজেদ মোল্লা, কওছার মোল্লা, নূরজাহান, পুটি বিবিসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ২০২৪ সাল ও ২০২৫ সালে তিনটি দলিলমূলে নলতা মৌজার হাল ২৬২৯ দাগে প্রায় তিন শতক জমি কেনেন একই গ্রামের মনিরুদ্দিন গাজী। জমি বিক্রির পরপরই নিদ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলিলের টাকা আদালতে জমা দিয়ে তিনটি আমানতের মামলা করেন। আদালত বাদি পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দেয়। বিচারাধীন ওই জমি মনিরউদ্দিন কখনো দখলে যেতে পারেননি। সম্প্রতি মনিরউদ্দিন আদালতে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এরপরও তারা ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

আজগার আলী মোল্লা আরো জানান, নলতা এলাকার একটি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে শনিবার জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মনিরউদ্দিনের ছেলে মাসুদ মটর সাইকেল থেকে নেমে মেঝ ভাই আমজাদ আলীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। বাড়ি ফিরে আমজাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কথা বলার একপর্যায়ে সামছুদ্দিন গাজী, তার ভাই মনিরউদ্দিন গাজী, তার ছেলে মাসুদ গাজী, মিজানুর রহমান, ইমরুল, মজিদ গাজী সহ তাদের লাঠিয়ান বাহিনীর শতাধিক সদস্য আমজাদ মোল্লার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে তিনিসহ অন্য ভাই ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে ঘরের দরজা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দা দিয়ে তাকেসহ চার ভাই, মা ও তিন ভাইয়ের স্ত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় হামলাকারিরা শাকিলা বেগমের দেড় ভরি ওজনের সোনার গহনা ও ব্যবসায়ের ৫০ হাজার নগদ টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিকেল ৫টার দিকে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজগার মোল্লা, শাহাদাৎ মোল্লা ও রেজাউল মোল্লাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজগার মোল্লার স্ত্রী রুবিয়া বেগম জানান, তিনিসহ পরিবারের আটজন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই প্রতিপক্ষ মজিদ গাজী তাদের (রুবিয়া) লোকজনের হামলায় মারা গেছে এমন খবর ছড়িয়ে দেওয়ার পর প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে মাসুদ ও তার লোকজন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন তিন ভাইকে হুমকি দিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রাজু হোসেন জানান, আজগার মোল্লার বাম হাতের কনিষ্ট আঙুলসহ দুই হাত ও পায়ের পাঁচটি স্থানের হাড় বেঙে গেছে। এ ছাড়া শাহাদাৎ মোল্লা ও রেজাউল মোল্লার হাত ও পাসহ পাঁচটি স্থান ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মাথা।

জানতে চাইলে পূর্ব নলতা গ্রামের সামছুদ্দিন গাজী জানান, তিনি নিজে, মজিদ, মনিরুদ্দিনসহ কয়েকজন আমজাদ হোসেনের বাড়িতে গেলে মজিদকে আটকে ফেলে পিটিয়ে জখম করে আমজাদ ও তার ভাইয়েরা। এ সময় তাদের আরো তিনজন আহত হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দিেেয়ছেন।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল হোসেন জানান, শনিবার বিকেলে পুলিশ আহত আজগার আলীসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে আমজাদ মোল্লার বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সেনা সদস্যরাও যায়। তবে প্রতিপক্ষের হামলায় মজিদ গাজী আহত হওয়ার ঘটনায় সামছুদ্দিন গাজী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তবে আজগার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২৬)