ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

প্রচ্ছদ » ক্যাম্পাস » বিস্তারিত

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুলা’ ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদ 

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৯:২৬:০৯
গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুলা’ ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদ 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) চলমান সংকটসহ ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দপ্তরে প্রতীকীভাবে ‘মুলা’ ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা।

আজ বুধবার সকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দপ্তরে সামনে অবস্থান নেয় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। পরে সেখানে মুলা ঝুলিয়ে দেয় সংগঠনটির নেতারা।

তাদের দাবিগুলো হলো- বাজেট বরাদ্দ পাশ করাতে ব্যর্থতা, ক্যাম্পাস নিরাপত্তায় পুলিশ বক্স স্থাপনে ব্যর্থতা, শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন শিক্ষক নিয়োগে ব্যর্থতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়।

নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একের পর এক সংকট নিয়ে প্রশাসন শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই। তাই ‘মুলা ঝোলানো’ আশ্বাসের প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে মুলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, গোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব, দাওয়াহ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মিশকাতুল আলম অলি, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।

নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, সর্বত্রই শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সামনে মুলা ঝুলিয়ে রাখছে। তাই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সেই মুলাই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দপ্তরে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, গোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। পূর্বের প্রশাসন যেভাবে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে মুলা ঝুলিয়ে রাখত, বর্তমান প্রশাসনও একইভাবে বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু ছাত্রনেতার পকেটে ভরে একই রকম আশ্বাস দিচ্ছে। আমাদের ৪ দফা দাবির কোনটিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এই মুলা নিতে নিতে আমরা ক্লান্ত। তাই আজ প্রতীকীভাবে সেই মুলাই প্রশাসনকে ফিরিয়ে দিলাম। আশা করি এতে তাদের টনক নড়বে।’

ভিসি ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন,” শিক্ষার্থীদের কিছু দীর্ঘদিনের দাবি থেকেই এই প্রতিবাদ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মূলত তাদের কয়েকটি চলমান (লংস্ট্যান্ডিং) সমস্যার কথা তুলে ধরতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, “বাজেট বাড়ানোর বিষয়টি সরাসরি আমাদের এখান থেকে নির্ধারিত হয় না। এটি ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থার মাধ্যমে পরিকল্পনা ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে হয়। তারপরও বলতে চাই, চলতি অর্থবছরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট আগের তুলনায় কয়েক কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।”

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “শিক্ষার্থীদের একটি বড় অভিযোগ ছিল শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে। আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিষয়টি বর্তমানে ইউজিসির অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং গত কয়েক মাস ধরেই এই প্রক্রিয়া চলমান।”

নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি—ক্যাম্পাসে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা সম্ভব কি না, সেটি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।”

আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে আইডি কার্ডের জন্য ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা অতিরিক্ত নয়। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে আমরা চেষ্টা করছি—এই খরচ আরও কমানো যায় কি না।”

তিনি আরও বলেন, “আগে বাইরে থেকে আইডি কার্ড তৈরি করাতে খরচ বেশি হতো। এখন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রিন্টিং করায় ভবিষ্যতে এই খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২৬)