প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
সাতক্ষীরায় রাস্তা নিয়ে বিরোধ মেটাতে দেড় লাখ টাকা দাবি
অপরাগতা প্রকাশ করায় একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৯:৩১:৫৮
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : চলাচলের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার নামে দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় দুই নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে তাদের ঘরবাড়িতে। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কামাননগরে এ ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনকে পুলিশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহতরা হলেন- কামাননগরের লিলি বেগম, তার স্বামী একরামুল ইসলাম ও বোন রহিমা বেগম।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিলি বেগম জানান, তার বাবা ২৭ বছর আগে কামানগরে সাত শতক জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। ১৬ বছর আহে তার সঙ্গে পুরাতন সাতক্ষীরা নাথপাড়ার একরামুলের বিয়ে হয়। তার ভাই আনোয়ার হোসেন সৌদি আরবে চলে যাওয়ায় পাঁচ বছর যাবৎ তিনি স্বামী ও সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। দুই বছর পর পার্শ্ববর্তী আড়াই শতক জমি কেনেন রুহুল আমিনের স্ত্রী সখিনা খাতুন। বর্তমান মাপ জরিপে রাস্তা অন্যত্র দেখানো হওয়ায় সখিনা প্রায় শতক জমি দখল করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিসি বৈঠক হলেও মীমাংসা হয়নি।
লিলি বেগম আরো বলেন, গত ২২ জানুয়ারি একই এলাকার হানিফ রাস্তার সমস্যা সমাধানের নামে তার কাছে দেড় লাখ টাকা চান। তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই এলাকার খোকন ড্রাইভারের ছেলে আনিসুর রহমান বাবু, মোঃ হানিফ, মোঃ সোহাগ, আনিসুরের ছেলে জিম, আব্দুল্লার ছেলে রফিক, খোকন চাওয়ালার ছেলে রুস্তুম ও রফিকসহ কয়েকজন তাদের বাড়ির সামনে চলাচলের রাস্তার উপর ইট সিমেন্ট ও বালি রেখে অবরোধ করে ফেলে প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্বামীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। তার স্বামীর ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন ও বাটাম ফোন ভেঙে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তারা স্বামী ও স্ত্রী ঘরে ঢুকে দরাজা লাগিয়ে দেন। হামলাকারি ওইসব লোকজন দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় মারপিট করলে পাশে ঘরে থাকা তার বোন রহিমা বেগম ছুঁটে এলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
হামলাকারিার আমার ঘরে থাকা গ্যাসের চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, হাঁড়ি, পাতিলসহ ৩০ হাজারের বেশি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে পুলিশ পিকআপে করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে হামলাকারিদের ভয়ে তারা বাড়িতে উঠতে পারছেন না। স্থানীয় বাবু মেম্বরসহ একটি মহল তাদেরকে ওই বাড়ি দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে চলে যাওয়ার পরামর্শ ও প্রতিপক্ষদের দিয়ে তাদের (লিলি) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করানোর চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ জানান, এ ঘটনায় একরামুল হক বাদি হয়ে বুধবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২৬)
