ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত

১৮ মাস পর রাজনৈতিক সরকার জনমনে স্বস্তি এনেছে 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৭:৫৩:৫০
১৮ মাস পর রাজনৈতিক সরকার জনমনে স্বস্তি এনেছে 

শিতাংশু গুহ


প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া বলেছেন, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান তথা দলমত, ধর্মবর্ন নির্বিশেষে পাহাড়ে বা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। চমৎকার কথা। অতীতে সকল সরকার প্রধান প্রায় অনুরূপ কথা বলেছেন, কথামত কাজ করেননি। আমরা চাই, তারেক রহমান সরকার আগামী দিনে কাজে ও কথায় তা প্রমান করুন। দীর্ঘ ১৮মাস পরে দেশে একটি রাজনৈতিক সরকার এসেছে, এতে জনমনে স্বস্তি এসেছে, আমরা এই নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানাতে চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশে ‘মব কালচার’ শেষ। তাই যেন হয়, মানুষ আর মব সন্ত্রাস দেখতে চায়না। শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ভাল ভাল কথা বলছেন। কথায় নয়, কাজে দেখাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রথম কাজ হোক ইউনুস আমলে যেসব শিক্ষককে বিদায় করা হয়েছে তাদের চাকুরীতে পুনর্বহাল করা। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ডিগ্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্পর্কিত আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশ বাতিল করা। ড. ইউনুস সরকার দেড়বছর দেশের যে ক্ষতি করেছে তা জনগণকে জানানো দরকার।

বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভাল হচ্ছে ২ বছরের ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন তত্বাবধায়ক সরকার। সবচেয়ে জঘন্য হচ্ছে ড. ইউনূসের ১৮ মাসের অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার। তারেকের সরকার সবে শুরু, দেখা যাক কোথাকার জল কোথায় গড়ায়? বিএনপি সরকার এখন ইউনুস গং-র প্রতিহিংসার শিকার সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ও অন্যায়ভাবে আটক বন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করুক। শুরু হোক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, শাহারিয়ার কবির ও আবুল বারাকাতের মুক্তির মধ্যে দিয়ে। অনেক সাংবাদিক হত্যা মামলায় জেল খাটছেন, এদের মুক্তি দেয়া হোক। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাঁদের আটক রাখার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। মামলা থাকলে জামিন দিয়ে মামলা লড়াইয়ের সুযোগ দেয়া হোক। ইউনুস আমলে যাদের অন্যায়ভাবে জেলে নেয়া হয়েছে তাদের মুক্তির দিয়ে যেসব সন্ত্রাসীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে তাদের জেলে নেয়া হোক। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার করা দরকার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ হোক।

নির্বাচনের পর সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাঁটিয়েছেন ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীর, তিনি বলেছেন: ২য় শপথ নেয়ার ফলে জামাত-এনসিপি’র ১ম শপথ বাতিল বলে গণ্য হবে। তারমতে সংবিধান ও আইনি কাঠামো অনুযায়ী একই পদে একাধিকবার শপথ নিলে তা সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীর ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা। ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধান রচনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যদিও লোকে ড. কামাল হোসেনকে বেশি চেনে। ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীরের বক্তব্য সঠিক হলে সংসদে ৭৮টি আসনে পুন্:নির্বাচন হতে হবে? তেমনটি হলে এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলে জামাত-এনসিপি’র আসন নেমে আসবে ০-৮-এ, আওয়ামী লীগ বসবে বিরোধী দলে? শিবির নেতা, ফরহাদ দু:খ করে বলেছেন যে, নিজ দেশে কদর না থাকলেও পাকিস্তান তাদের অনেক সন্মান দেয়’। ঠাট্টা করে একজন লিখেছেন, তা তো বটেই, নইলে পাকিস্তানের খাটে এত পাকি জন্ম নেয় ক্যামনে? ব্যারিষ্টার আরমান বলেছেন, জান দেব, জুলাই দেবোনা। ভাই, এটি ফেব্রুয়ারি, জুলাই এখনো ৫মাস বাকি, এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে গেলে কোথায় পালাবেন, সেটা ঠিক করে রাখেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক চিঠিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ট্রাম্পের স্টাইলই আলাদা, চিঠি পড়ে যেকেউ মনে করতেই পারেন যে, ‘খোকা, কথামত চলো’। এমনিতে লোকে বলছে, এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে বৃটেন, বিদেশমন্ত্রী আমেরিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের। বিরোধী দলনেতা ও এনসিপি’র হুইপ পেয়েছে পাকিস্তান। চীন কিছু পায়নি, কারণ সবাই জেনে গেছে শেখ হাসিনা’র পতনের মূল কারণ চীনের সাথে মাখামাখি। আমেরিকা চায়না বাংলাদেশ চীনের সাথে মাখামাখি করুক, ভাবছি হুজুররা না আবার চীনের বিরুদ্ধে ওয়াজ শুরু করে দেয়? ফজলুর রহমান এমপি বলেছেন, সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান করবো, রাজাকারদের শান্তিতে থাকতে দেবোনা। সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ বলেছেন, এনসিপি’র কেউ ভোটে পাশ করেনি, তারা পাশ করেছে ইউনূসের অনুরোধে। ইউনুস বলেছেন, ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, শুরু করেছি মাইনাস থেকে’? বৃদ্ধ বয়সে, বিদায় কালেও তিনি এমন একটি জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা জাতিকে শুনিয়ে গেলেন!

পুলিশ হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনি পিচ্চি সমন্বয়ক মাহ্দী’র দিল্লী সফর অনেককেই অবাক করেছে। কারণ ভারতীয় আধিপত্য দূর করতে এঁরা মুখে ফেনা উঠিয়ে ফেলেছিলো, আবার ভারত কেন বাবাজী? মাহদী অবশ্য ভারতীয় গণতন্ত্রের সুযোগ নিতে চেয়েছিলো, পেয়েছেও, যেজন্যে ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রশ্ন হলো, ভারত এ জঙ্গীকে ভিসা দিলো কেন? মাহ্দী’র টেবিল চাপড়িয়ে পুলিশ হত্যার স্বীকারোক্তির সাথে আমার কিন্তু ফারুক, রশিদ, ডালিমের কথা মনে হয়েছে? এই মাহ্দী নাকি দিল্লিতে বসে আকুতি করে জানিয়েছে যে সে মোদী ভক্ত! মাহফুজ আলম নির্বাচন করেনি। ইউনুস তাঁকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে পরিচিতি দিয়েছেন। এই মাস্টারমাইন্ড এখন ‘জামাত-এনসিপি’-কে ‘বাটপার’ বলছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পাদিত চুক্তি খতিয়ে দেখা দরকার। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক অভিযোগ করেছে যে, মতুয়া নেতা পদ্মনাভ ঠাকুর তাঁর পত্নীকে মহিলা কোটায় এমপি বানানোর প্রতিশ্রুতি পেয়ে দুই হিন্দু এমপি প্রার্থীকে হারানোর জন্যে কাজ করেছেন। অভিযোগ গুরুতর, দেখা যাক ঠাকুরপত্নী এমপি হ’ন কিনা?

ভারতের লোকসভার স্পীকার ওম বিড়লা-কে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে, ভারত বরাবর তাই চেয়েছে। এবার দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে বলে আশা করি, দুই দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে’। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সব-সময় একজন মুসলমান, একজন হিন্দুকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিলে কিছুটা বৈষম্য দূর হয়! সরকার দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়িয়েছেন, এজন্যে ধন্যবাদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সবাই একে একে দেশ ছাড়ছেন বা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কি চমৎকার দেশপ্রেম, তাইনা? ক্ষমতা আছে তো দেশে আছেন, ক্ষমতা নাই তো দেশে থাকার দরকার কি? এই টুরিষ্ট উপদেষ্টারা দেশে গিয়ে বাংলাদেশকে আমেরিকা বানানোর কথা বলে দেশটাকে আফগানিস্তান বানিয়ে চলে গেলেন, কেউ কিছু বললো না? তাজুল ইসলাম কি পালিয়ে গেছেন? তিনি কিন্তু বড় বিপদে আছেন! একদিকে সেনাবাহিনী, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, তাঁকে রক্ষা করবে কে?

রুমিন ফারহানা বলেছেন, সংসদে কমপক্ষে ৩০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব নেই, ফলে আগের নির্বাচনের সাথে এই নির্বাচনের তেমন পার্থক্য নেই। কথাটা সত্য। জামাত বলেছিলো শহীদ মিনারে ফুল দেয়া মুর্ক্তিপূজা, আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আমীর ড. শফিক শহীদ মিনারে ফুল দিলেন। সাথে ছিলেন নব্য জামাত নাহিদ। জনগণ তাদের দেখে ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’ শ্লোগান দিয়েছে। ইউনুস সরকার বাংলাভাষাকে একটি শব্দ ‘জুলাইজঙ্গী’ উপহার দিয়েছে। নিউইয়র্কের সাদেক শিবলী একটি চমৎকার শ্লোগান দিয়েছেন, ‘মৌলবাদ মুক্ত আওয়ামী লীগ চাই’। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, সারাদেশে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলকে দেশের মানুষের সুবিধার্থে শৌচাগারে রূপান্তরিত করা দরকার। জুলাই ৩৬ ভেস্তে যাক। মন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আবোল-তাবোল বলে বেড়াচ্ছেন, অথচ তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া মহান একুশে ফুল দিয়ে একটি কথা না বলে চলে গেলেন। কাজেই কথা কম কাজ বেশি।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।