প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ফরিদপুরে বিএনপি নেতাকে মারধর করলেন ছাত্রদল নেতা
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৮:২৭:৫৩
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি: ফরিদপুরে 'চাঁদাবাজি'তে বাধা দেওয়ায় মো. ওয়াহিদ মিয়া নামের এক ইউনিয়ন বিএনপিনেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সোহেল মুন্সী নামের স্থামীয় এক ছাত্রদলনেতার বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রদলনেতা সোহেল মুন্সী চাঁদাবাজির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর হলপট্রি এলাকায় ওয়াহিদ মিয়ার নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অতর্কিত এ হামলার ঘটনায় ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওয়াহিদ মিয়া (৪৬) ও তার ভাগিনা শিক্ষার্থী রনি (১৯) আহত হন। ঘটনাস্থলে ওয়াহিদ মিয়ার সাথে বসে থাকা কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কোতয়ালি থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি নেতা মো. শরিফুল ইসলাম সুজা এ হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ছাত্রদলনেতা সোহেল মুন্সীর অতর্কিত হামলা করায় ওয়াহিদ মিয়াকে প্রথম পর্যায়ে রক্ষা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ওই দুই বিএনপি নেতা। তবে, পরে তারা এ ঘটনা বেশিদূর এগোতে দেননি বলেও জানিয়েছেন বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ও শরিফুল ইসলাম সুজা। তবে যা ঘটেছে তা কাঙ্ক্ষিত ছিলো না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি'র ওই দুই নেতা।
এদিকে, বিএনপিনেতা ওয়াহিদ মিয়াকে মারধরের বিষয়টি উত্তরাধিার ৭১ নিউজের নিকট স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগটি সম্পুর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলনেতা সোহেল মুন্সী।
তিনি এ বিষয়ে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, চাঁদাবাজির ঘটনাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মুলতঃ আমার একালায় কিছু লোক রিলায়েন্স নামের একটি এনজিও'তে ডিপোজিট করেছিলো। ওই ডিপোজিটের বিপরীতে সমিতির দেওয়া বইটিতে এক ধরণের টাকার অংক এবং খাতায় লেখা টাকার অংকের তারতম্য রয়েছে। দুই জায়গায় দুই ধরণের টাকার পরিমান লেখার বিষয়ে আমার নিকট অভিযোগ আসে। পরে, বিষয়টি সমিতির মালিক লিটুকে জানালে তিনি ঘটনাটির সমাধানের কথা না বলে উল্টো গড়িমসি করতে থাকে।
সোহেল জানান, আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার লিটুর সাথে কথা বলেছি কিন্তু তিনি আমার কথার গুরুত্ব দেননি। পরে আমি ওই অফিসে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে বললে তিনি এক সপ্তাহ টাইম নিয়েছেন। সোহেল মুন্সী আরও জানান, 'এছাড়া, আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে ফেসবুকে লেখালেখি ও কি একটা বানোয়াট ভিডিও শেয়ার করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে আসছে ওই সমিতির মালিক পক্ষের একাধিক লোকজন।
সোহেল মুন্সী আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বিএনপি নেতা ওয়াহিদ মিয়া ফোন দিয়ে বলে, 'তুই কে? তুই আমার ভগ্নিপতি লিটু'র অফিসে কেনো গিয়েছিলি? কেনো তার কাছে চাঁদা চেয়েছিস'। পরে, তার সাথে ফোনে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উচ্চবাক্যে সে আমার ওপর হেডম দেখায় ও আমাকে রাগান্বিত করে। এরপর আমি গিয়ে দুই-চারটা চর-থাপ্পর দিয়ে এসেছি, এর বেশি কিছু নয়। সোহেল আরও জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপি নেতা মোস্তফা চেয়ারম্যান ভাই ও সুজা ভাইয়ের অনুরোধে আমরা ওখান থেকে চলে আসি। এখানে চাদাঁবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অপরদিকে সোহেল মুন্সীর এ বক্তব্যকে নির্লজ্জ মিথ্যাচার দাবি করে আহত বিএনপি নেতা মো. ওয়াহিদ মিয়া উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'সে (সোহেল মুন্সী) সম্পুর্ণ মিথ্যাচার করেছে। কানাইপুরে ব্যবসা করতে হলে নাকি সোহেল মুন্সীকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে, না দিলে নাকি কেউ কানাইপুরে ব্যবসা করতে পারবেনা। কেনো তাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে সেটা জিজ্ঞেস করতেই সোহেল ক্ষেপে গিয়ে আমাকে মা-বাপ তুলে গালি দিয়ে বলে- 'তুই কই আছোস থাক, আমি এসে বলতেছি। আমি হলপট্রি আসতে বলি। এরপর আমার সাথে থাকা ফরিদপুর সদর উপজেলা বিএনপি নেতা ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের এর সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ভাই এবং জেলা বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম সুজা ভাইয়ের সাথে কথা বলতেছিলাম। আমি ভাবিনি সোহেল আমাকে আক্রমণ করবে। আমি ভেবেছি, সোহেল আসলে ওকে বুঝিয়ে বললে ঘটানাটি ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সে সুযোগ পাইনি। ও এসেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফিল্মি স্টাইলে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার সিনিয়র নেতারা দু'জন মিলে ঠেকানোর চেষ্টা করেও প্রথম পর্যায়ে তারা ব্যর্থ হন। পরবতীতে তাদের হস্তক্ষেপে হামলা থামে এবং সোহেল মুন্সী সদলবলে চলে যান।' তিনি আরও জানান, 'আমি বিষয়টি আমার দলের সিনিয়ার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ছাত্রদলকে অবহিত করেছি। বাকীটা তারা দেখবেন।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে ফোনে না পেয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বের থাকা সংগঠনটির জেলা সহ-সভাপতি এনামুল করিম রেজাকে ফোন করা হলে তিনি উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'ঘটনাটি আংশিক শুনেছি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও বিব্রতকর ঘটনা। আমি বিষয়টি আমার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে অবগত করেছি'।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপনকে ফোন করা হলে তিনি উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। তিনি আরও জানান, ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সী সম্পর্কে এর আগেও বেশকিছু অভিযোগ এসেছে। তবে, এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হবে। এছাড়া 'বিএনপি'র দলীয় পরিচয় বহন করে, দলের আদর্শ বিচ্যুত হয়ে যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা সংগঠনের সুনাম বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তা সহ্য করবেনা বিএনপি' বলেও জানান জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব।
শুক্রবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষই স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বলে কোতয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কানাইপুর ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপিসহ বিএনপি পরিবারের বিভিন্ন স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে বড় কোনো ঘটনায় অবতারণা যেনো না হয়, সে বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ'র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দলটির তৃণমূলের কর্মীরা। তাছাড়া, স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সাথে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলছেন।
(আরআর/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬)
ফরিদপুরে 'চাঁদাবাজি'তে বাধা দেওয়ায় মো. ওয়াহিদ মিয়া নামের এক ইউনিয়ন বিএনপিনেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সোহেল মুন্সী নামের স্থামীয় এক ছাত্রদলনেতার বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রদলনেতা সোহেল মুন্সী চাঁদাবাজির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
