প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার ঘোষণা
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ০০:০০:৩২
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তৃতীয় কর্মদিবসে প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
ড. মাহদী আমিন বলেন, আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই অফিসে এসেছেন। তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি পরিহার করে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে এবং যানজটে অপেক্ষা করেই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। অফিসে ঢোকার আগে তিনি একটি বৃক্ষরোপণও করেন।
তিনি আরও বলেন, কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে যারা তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একসময় কাজ করেছেন, তাদের নাম ধরে ডেকে কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় নেতাদের সম্মানীর বিষয়ে ড. মাহদী বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
একটি টেকনিক্যাল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আসন্ন ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে সম্মানিত খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কত টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। টেকনিক্যাল টিম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর আলোচনা শেষে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা মতামত দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বা ডিরেগুলেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।
জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. মাহদী আমিন।
(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬)
