ঢাকা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু 

নড়াইলের ৫ খুনের ঘটনার অন্যতম হোতা রনি শিকদার আটক

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:২০:২৩
নড়াইলের ৫ খুনের ঘটনার অন্যতম হোতা রনি শিকদার আটক

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর পাঁচ খুনের ঘটনার অন্যতম হোতা রনি শিকদারকে আটক করেছে র‍্যাব- ৬ যশোরের সদস্যরা।

হত্যাকাণ্ডের পর আজ সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর শিকদার বাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রনি শিকদার ওই এলাকার আমিন শিকদারের ছেলে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ও জড়িত অন্যদের ধরতে র‌্যাব কাজ করছে বলে র‌্যাবের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এরআগে সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাসোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে দু'পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পিতা-পুত্রসহ ৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০/১২ জন আহত হয়। এসময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় ৮/১০ বাড়িঘর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার রাজনৈতিক ভোলবদল এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ‘পুরানো বনাম নব্য’ দ্বন্দ্বই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সুযোগে খায়ের মোল্লার অনুসারীরা এলাকায় ফিরতে শুরু করলে খলিল মোল্লা গ্রুপের সাথে তাদের জিইয়ে থাকা দ্বন্দ্ব-সংঘাত চরমে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো বড়কুলা গ্রাম। এই নৃশংস সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খলিল গ্রুপের খলিল রহমান, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, এবং ফেরদৌস হোসেনসহ তাঁর ছেলে মুন্না শেখ।

অন্যদিকে, পাল্টা আঘাতে খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াও নিহত হন। বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারাপুর থেকে রনি শিকদারকে আটক করে।

র‍্যাব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নড়াইলের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

(আরএম/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬)