ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

‘বর্তমান সরকার ব্যাংকিং সংস্কার অব্যাহত রাখবে’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ০০:৪৩:৪০
‘বর্তমান সরকার ব্যাংকিং সংস্কার অব্যাহত রাখবে’

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং একীভূত ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে গভর্নর বলেন, আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফ অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছি।
তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি খুবই ইতিবাচক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি তো কমাতেই হবে—এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই।
বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

খেলাপি ঋণ কমানো প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করা এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে।
একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একীভূত হওয়ার পর এসব ব্যাংককে স্থিতিশীল রাখা এখন প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। পুরোনো আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও আসছে বলে তিনি জানান।

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিল, তবে সম্ভাব্য প্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদ সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে বোর্ডের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬)