ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

অতিরিক্ত খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আন্দোলনের হুশিয়ারি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৯:০১:১৯
অতিরিক্ত খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আন্দোলনের হুশিয়ারি

হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ পৌরসভার হাটবাজার থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ব্যবসায়ীরা।

এ সময় বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচা মালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল ও গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহায় দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশি মতো ইজারা নিচ্ছেন। খাজনা রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে চাঁদা নিচ্ছে।

বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মণ কাঁচা মালে চার টাকার খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা মন প্রতি ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চট খাজনা আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুন আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে তাকে দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা।

রহমত আলী ও হাবিব বলেন, একটা ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকার খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে তাদের এতো টাকার খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনা আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী বন্ধ না করে তবে হাট বাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো এখনো সেই নিয়মেই খাঁজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা দিচ্ছে না। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি বেশি টাকা আদায় করে তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেন তবে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।

(এইচআর/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬)