ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » কৃষি » বিস্তারিত

লিচুর রাজ্য ঈশ্বরদীতে গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ, বাম্পার ফলনের আশা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:২১:০৯
লিচুর রাজ্য ঈশ্বরদীতে গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ, বাম্পার ফলনের আশা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : আশির দশক থেকেই ঈশ্বরদী উপজেলায় লিচুর চাষ হয়ে আসছে। তবে ২০০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে রসালো ও সুস্বাদু লিচুর আবাদ হচ্ছে। ছোট-বড় মিলিয়ে উপজেলায় রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ২৭০টি লিচুর বাগান।

গত বছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে চলতি মৌসুমে গাছে গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন চাষিরা।

চাষিদের তথ্যমতে, সাধারণত মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যেসব গাছে মুকুল আসে না, সেগুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে দেখা যায়। আর যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো মুকুলে ছেয়ে যায়।

ঈশ্বরদীতে প্রধানত তিন জাতের লিচুর চাষ বেশি হয়—মোজাফফর (দেশি), বোম্বাই ও চায়না-৩। এছাড়া কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতের লিচুও চাষ হচ্ছে। স্বাদ ও বাজারচাহিদা বেশি থাকায় বর্তমানে চায়না-৩ জাতের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

উপজেলার আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তারপুর, কদিমপাড়া, মানিকনগর ও ছিলিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ গাছে এবারও মুকুল আসেনি।

জয়নগর এলাকার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লিচুচাষি আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল (লিচু কিতাব) বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুল অনেক বেশি। গাছে কচি পাতা কম গজিয়েছে, ফলে মুকুলের পরিমাণও বেশি দেখা যাচ্ছে।”

মানিকনগরের চাষি মিজান শেখ বলেন, “আমার প্রায় শতাধিক গাছ রয়েছে। গত বছর ৩০ থেকে ৩৫টি গাছে লিচু এলেও এবার প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।”

আওতাপাড়া এলাকার চাষি জাহিদুল হক বলেন, “গত বছর লিচু কম থাকায় আশানুরূপ লাভ হয়নি। তবে এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আশা করছি, ভালো ফলন হলে লাভবান হতে পারব।”

নওদাপাড়া এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকেন তারা। গত বছর লোকসান হলেও এবার পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, “গত বছর ফলন কম হলেও এবার গাছ মুকুলে ভরে গেছে। গত বছরের শেষদিকে বর্ষা আগে বিদায় নেওয়া এবং বর্তমানে রাতে শীত ও দিনে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া—লিচুর জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলন হতে পারে।”

(এসকেকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬)