ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

‘সংঘাতে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট আরও বাড়বে’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১১:৫৮:২৩
‘সংঘাতে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট আরও বাড়বে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আফগানিস্তানে মানবিক সংকটের আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। চলমান এ সংঘাতে এ পর্যন্ত উভয় দেশের অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানসহ বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা কমাতে ও সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ডুজারিক জানান, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মীরা লক্ষ্য করেছেন আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বোধ করছেন। তারা বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ পুরুষ, নারী ও শিশু মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, যদি যুদ্ধ চলতে থাকে বা এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, তবে এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

ডুজারিক যোগ করেন, আমরা আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেখানেই সম্ভব আমরা সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখব।

আফগান শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে তোরখাম সীমান্ত পারাপারের একটি ট্রানজিট ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ঘটা একটি ঘটনার খবরে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

ডুজারিক বলেন, আমরা সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের ৫৩টি শরণার্থী গ্রাম বন্ধ করতে শুরু করে। এরপর থেকে কয়েক লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তান থেকে নিজ দেশে ফিরে আসতে শুরু করে।

অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ইউরোপীয় কাউন্সিলের
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল।
এ সংঘাত ওই অঞ্চলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে এক বিবৃতিতে কাউন্সিল সতর্ক করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে দেওয়া এ বিবৃতিতে কাউন্সিল কাবুল ও ইসলামাবাদ উভয় পক্ষকে সংলাপে বসার এবং মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য জোর আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং বেসামরিক মানুষের আরও ক্ষতি রোধ করতে সম্ভাব্য সব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কাউন্সিল আরও জানায়, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘আফগানিস্তানের ভেতরে বা আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জর্ডানের সমর্থন
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ আল-মাজালি এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পরিচালিত সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জর্ডান সমর্থন করে।

তিনি আরও জানান, জর্ডান এ পরিস্থিতিতে সংযম অবলম্বন, সংলাপ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আরব আমিরাতের উদ্বেগ
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে মতভেদ নিরসনে যুক্তি ও প্রজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং কূটনৈতিক পথ অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনে সহায়তা করতে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন অর্জনে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

আফগান ও সৌদি শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ তার আফগান সমকক্ষ আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।

তথ্যসূত্র : আল জাজিরা
(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)