প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত
রাজনীতির দুষ্টু চক্র এবং আমাদের রাষ্ট্র নায়ক
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৭:৩০:৩৯
রহিম আব্দুর রহিম
সভ্য পৃথিবীর সকল উন্নয়ন, কল্যাণের ইতিহাসের ধারক বাহক রাজনৈতিক দলের নেতাদেরই রয়েছে। যারা মানবের মঙ্গলার্থে নিজেদের উৎস্বর্গ করেছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মহৎ চিন্তা, উদ্দেশ্য যখন সমাজ রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয় তখনই তা মানব জাতির বৃহৎ স্বার্থে নিবেদিত হবার ইতিহাস সৃষ্টি করে। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশও একটি রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রের এক অনন্য রক্তাক্ত ইতিহাস সমুজ্জ্বল। '৫২ এর ভাষা আন্দোলন, '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং বারবার অধিকার আদায়ের সংঘটিত সংগ্রাম আমাদেরকে ইতিহাসে উজ্জীবিত করে রেখেছে। কি সুন্দর একটা উর্বর মাটির দেশ! যে দেশের মাটিতে সোনা ফলে। নদী নালার প্রকৃতি নির্ভর এই ভূ-খন্ডে পাখি মল ত্যাগ করলে গাছ গজায়, শেয়াল-কুকুরের হাক ডাকে প্রকৃতি তার রূপ বদলায়।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশের মানুষের মন-ধ্যান নির্মল পবিত্রতার সাক্ষ্য বহন করে। এমন একটি ভূ-খন্ডকে কেনো সকল মানুষের নিরাপদ ভূমিতে পরিনত করতে বারবার রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। তবে কি মানবের কল্যাণে আমাদের রাজনীতির পথ কখনই সুগম হবে না? স্বাধীন দেশে কবে, কার হাত ধরে মানুষে -মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ, নিপীড়ন নির্যাতনের যাঁতাকল থেকে মুক্তি পাবে তা দেখার সময় এখন এসেছে। বৃটিশ, পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে আমরা আলাদা হতে পেরেছি ঠিকই, তবে এখনও তাদের বিষবাষ্প থেকে আমরা মুক্তি পায় নি। এই না পাওয়ার কারণ একটাই, তা হলো আমরা যারা মুক্তিকামী মানুষ তারা বহুবিধ ধারায় বিভক্ত হয়ে হিংসা, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছি। যা হবার কথা ছিল না। হবার কথা ছিলো জনমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করা, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, গণতান্ত্রিক সরকারকে সহযোগিতা করা এবং উদার গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা।
আমরা দেখে আসছি, ক্ষমতাসীনরা যত না মানবিক সুফল প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত, তার চেয়ে অধিকতর ব্যস্ত থাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। অপরদিকে বিরোধে দলে অবস্থান করে যারা সরকারের ক্রটি বিচ্যুতি ধরে সমালোচনা করার কথা, তারা ক্ষমতা পাল্টানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে দেশকে অস্থির করে তোলেছে। হামলা-মামলা যেমন গণতান্ত্রিক দেশের মানুষের জন্য শুভকর নয়, তেমনি সরকার বিরোধীদের দাবী আদায়ের রাজনীতির নামে বিশৃঙ্খলা করা সম্পূর্ণভাবে অসর্মথিত। উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি হওয়া উচিত, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করা এবং জনকল্যাণমুখী সরকার গঠন করার ব্যবস্থা। এরপর সরকারের মেয়াদকালপূর্ণ হবার সুযোগ দেওয়া।পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে দলের যোগ্যতা যাচাই করা। ক্ষমতায় যাওয়া এবং থাকার জন্য নিপীড়নমূলক রাজনীতি পরিহার করে সহনশীল রাজনৈতিক ধারার টেকসই চর্চা অব্যাহত রাখার মহান দায়িত্বটা কে নেবেন? সেটাই বড় কথা। দেশ স্বাধীন হবার পর মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার মত দলটির প্রধান এবং স্বাধীন দেশের তৎকালীন রাষ্ট্র নায়ক শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের সমর নায়ক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও মেরা ফেলা হয়। এরপর ক্ষমতার পালাবদলে কখনও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সদ্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার হাতে দেশের শাসনভার ন্যস্ত হয়। কিন্তু এই দুই রাষ্ট্র নায়ক যার যার অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে বহুবিধ উন্নয়ন করলেও উন্নয়ন হয়নি, সকল দল মতের বসবাসযোগ্য একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ নির্মানের। দেখেছি, এই দল ক্ষমতায় তো, ওই দল হামলা মামলার শিকার।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আমরা এমন একজন রাষ্ট্র নায়ক পেয়েছি, যার বাবা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি। মা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী।তিনি দেশের কোন সেক্টরের গুরুত্ব কিভাবে দেবেন তা তিনি তার পরিকল্পনায় রেখেছেন এটাই সত্যই। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সকল অসুস্থ কালচার বিদায় করার উদ্যোগ গ্রহণ করতেন পারেন। এক্ষেত্রে দল মত নির্বিশেষে তিনি যে সকল মানুষের নেতা, তা প্রমাণ করার মত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও সম্ভব। পতিত সরকারগুলোর মত নিপীড়ন নির্যাতনমূলক কর্মকান্ডকে থেকে নিজ দল এবং রাষ্ট্রকে পুরোপুরি বিরত রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন। তাঁর সরকার দেশের মানবিক উন্নয়নে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলেই এই দেশ সর্বকালের এবং সকলের বাসযোগ্য একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিনত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। গত ১২ ফ্রেবুয়ারির নির্বাচনে পতিত সরকারের সাধারণ ভোটাদের ভোট প্রদান এবং আত্মগোপনে থাকা নেতা কর্মীদের ভূমিকায় স্পষ্ট হয়, মুক্তিযুদ্ধের দুটি শক্তির মধ্যে কোথায় যেনো গভীর মিল রয়েছে।
আবার এই দুই শক্তির বিগত দিনগুলোর হানাহানি, হিংসা-প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের ফিরিস্তি বিশ্লেষণ করলে প্রমাণ হয়, আমাদের রাজনৈতিক মানবিকতায় কোন দুষ্টু চক্রের কালোধাবা ভর করেছে। বর্তমান অবস্থায় রাজনৈতিক মানবতায় ভর করা দুষ্টু চক্রটিকে বিদায় করার মহান দায়িত্বটা রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান নিতে পারেন কি না? তা ভেবে দেখার সুযোগ হাত ছাড়া করলে জাতি সমষ্টিগতভাবে হাজার বছর পিছিয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে দেশ প্রেমিক মানুষদের উচিত, নির্বাচিত সরকারের সকল গঠনমূলক এবং ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করা। মনে রাখতে হবে সভ্য সমাজের প্রথম উন্নয়ন মানবতা এবং মানবিকতা, দ্বিতীয়ত- সংবিধান রক্ষা, তৃতীয়ত- জীবন যাত্রার উন্নয়ন।
লেখক: নাট্যকার ও গবেষক।
