ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে পারে রাশিয়া

২০২৬ মার্চ ০৫ ১৩:০৪:২০
ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে পারে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের পরিবর্তে বিকল্প বাজারে জোর দেওয়ার অংশ হিসেবে দেশটি ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ার পাইপলাইনের গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তার গ্যাস সরবরাহ ইউরোপের বাইরে অন্য বাজারে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।

তিনি বলেন, এখন নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। হয়তো ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ এখনই বন্ধ করে দেওয়া আমাদের জন্য ভালো হবে। যে বাজারগুলো খুলছে সেখানে গিয়ে অবস্থান শক্ত করা যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে ইউরোপে গ্যাসের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল সুরক্ষার পরিকল্পনা করছে জানালে দাম কিছুটা কমে আসে।

পুতিন বলেন, ইউরোপের পরিবর্তে বিকল্প বাজারে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলে তা অন্য কিছু জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশের পথ অনুসরণ করার মতোই হবে।

তার কথায়, এমন কিছু ক্রেতা এরই মধ্যে এসেছে যারা একই প্রাকৃতিক গ্যাস বেশি দামে কিনতে প্রস্তুত। ফলে ইউরোপের পরিবর্তে সেই বাজারে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ইউরোপে রুশ গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে রাশিয়া এখনো সার্বিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহ করে। এছাড়া নোভাটেক পরিচালিত ইয়ামাল এলএনজি প্রকল্প থেকেও কিছু গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ ছিল রাশিয়ার গ্যাস, যার বার্ষিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।

তথসূত্র : ব্লুমবার্গ

(ওএস/এএস/মার্চ ০৫, ২০২৬)