প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
লৌহজংয়ে গণ পিটুনিতে দুই চোর নিহত
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৪:২৭:৪৩মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুৃনিতে বেদে সস্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি মারা গেছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর পূর্বে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই দুই চোর চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়ে তাদের(জনতার) গণপিটুনির শিকার হয়। নিহত দুই চোর হচ্ছে মো. সাগর হোসেন (২৪) ও সানারুল হাসান (১৮)। তারা উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা বেদে সম্প্রদায়ের লোক। এ ঘটনায় পুলিশ জিঞ্জাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে। তবে শহিদ সুরুজ নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক ও ফেইস বুক কন্টেন ক্রিয়েটর গণপিটুনির দৃশ্য ধারণ করায় ফেস বুকে পেস্ট করায় ফেসে যাচ্ছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার রাতে ওই দুই চোর সাতঘড়িয়ার একটি ক্লিনিকে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে চোরাই তার সহ জনতার হাতে ধরা পরে। স্থানীয় জনতা তাদের গণধোলাই দিলে তারা এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে চুরির কথা স্বীকার করে। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা চোর দুইজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ গণধোরাইয়ের শিকার দুই চোরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই চোর মারা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে লৌহজংয়ের হলদিয়া ইউনিয় ও তার আশে পাশের বাসিন্দারা সিঁধেল বা ছেচড়া চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ ছিল। এ নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চোরের উপদ্রপের কথা উত্থাতি হয়ে আসছিল। কিন্তু এলাকাাসী কোন প্রতিকার পাচ্ছিলনা। চোররা একের পর এক বাসা বাড়িতে চুরি করে চলছিল। বাসা বাড়িতে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নেয়া বৈদ্যুতিক সংয়োগ তার এমন কি ঘর থেকে পানির মটরের সংযোগ তার, বাথ রুমের ফিটিংস, থালা-বাসন, বদনাসহ যা কিছু হাতের কাছে পেতে তাই চোররা চুরি করে নিয়ে যেতে। গরু ছাগলও চুরির ঘটনা ঘটে। আর এসব চুরির মাল বিক্রি করতো উপজেলার বৃহৎ মাদকের আখড়া বলে পরিচিত গোয়ালী মান্দ্রার একটি বিশেষ পল্লীতে। মাদক কেনা বেচাকে কেন্দ্র করেই এখানে চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র চালু হয়। চোরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ কোন প্রকার কুল কিনারা পাচ্ছিলনা। গতকাল চোর ধরা ধরলে জনগণ ক্ষোভ থেকে তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে ওই দুই চেরা মারা যায়।
এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক শহিদ সুরুজ তার ফেস বুক ফেইজ টন নিউজ থেকেএকটি ভিডিও আপরোড দেয়। এতে ওই বিশেষ পল্লীর লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়। কারণ ওই সাংবাদিক ইতিপূর্বে ওই পল্লীর রোকদের মাদক ব্যবসা নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করে। এতে জন্য মাদককারবারীদের মাদক ব্যবসায় ব্যাঘাট ঘটে। তাই তাকে ফাসাতে এখন ওঠে পরে লেগেছে মাদক কারবাড়ির ওই চক্রটি।
স্থানী আরেক সাংবাদিক আবু নাছের লিমন বলেন, সাংবাদিক সুজুর একজন ভাল ও স লোক। তার সে মাদক কারবারীদের নিয়ে ইতিপূবে বেশ কিছু ভিডিও প্রকার করে। তবে একটি মহল বিশন ক্ষিপ্ত ছিল তার উপর। তাই তাকে পাসাচ্ছে। নতুবা সরুজতো ওই দুই চোরকে মারনি। তারপরেও কেন তাকে ওই মামলায় ফাসানোর চেষ্টা চলছে। ভিডিও করা ও এলাকায় বাসীর কথা তুলে ধরাই কি তার বিপদ বয়ে আনলো?
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গণপিটুনির শিকার হয়ে চোর সন্দেহে দুই ব্যক্তি মারা গেছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়াধীন। লাশ ময়না তদন্ত্রের জন্য মর্গে পাটানো হয়েছে। সাংবাদিক শহিদ সুরুজের বিরুদ্ধে বেদেদের পক্ষ থেকে আভিযোগ রয়েছে। তারা তাকে আসামী করলে আমি মামলাতো নিতে হবে। পুলিশ তাকে কুচিয়া মোড়ায় আটকানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু সে পুলিশের হাতে কামড়িয়ে পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে নিহত দুই ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় ৫ জনকে জিঞ্জাসবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ নিহত ওই দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। জনতা তাদের মারধরের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিসক তাদের মৃত ঘোষনা করের।
(এমকে/এএস/মার্চ ০৫, ২০২৬)
