ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

ঈদযাত্রায় বাড়ছে ট্রেন ও কোচ

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৩:২৯:১৯
ঈদযাত্রায় বাড়ছে ট্রেন ও কোচ

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, বিশেষ ট্রেন পরিচালনা এবং জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম।

রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার্থে নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ কোচ সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিশেষ ট্রেনগুলোর মধ্যে দুটি ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’। এর একটি জোড়া ট্রেন ভৈরব বাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং আরেকটি জোড়া ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করবে। এই ট্রেনগুলো শুধুমাত্র ঈদের দিন চলবে।

এছাড়া বাকি তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন সোমবার থেকে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি চলাচল শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

স্টেশন ম্যানেজার বলেন, বর্তমানে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন চলছে। আজ ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩৯টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে।

তিনি জানান, এবারের ঈদযাত্রায় যেন কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
এতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট প্রদর্শনের মাধ্যমে স্টেশনে প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে কিউ সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং জিআরপি পুলিশের সদস্যরা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি টিটিই, টিসি এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

সাজেদুল ইসলাম বলেন, একটি দুর্ঘটনা পুরো একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে। তাই জীবনের ঝুঁকি এড়িয়ে সবাইকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে যাত্রীদের পিএ সিস্টেমের মাধ্যমেও নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের জন্য নতুন সেবা হিসেবে ট্রেনে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির স্টারলিংক সেবার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। ঈদের পর ধীরে ধীরে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তবে ট্রেনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় এবং হয়রানির অভিযোগ না থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহানুর ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়নি।

খুলনাগামী নকশিকাঁথা এক্সপ্রেসের যাত্রী ইকবাল রুমি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। পরিবার নিয়ে ভ্রমণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।

বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রী আশকর আলী বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাড়তি কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভিক্ষুক ও ভাসমান দোকানদারদের উপদ্রব কমেছে।

স্কাউট সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে সহায়তা করছেন এবং মালামাল বহনেও সাহায্য করছেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

(ওএস/এএস/মার্চ ১৫, ২০২৬)