প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ঈদ ঘিরে সক্রিয় জাল নোট কারবারিরা
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৮:৩৬:৫২
হাবিবুর রহমান রুবেল, ঝিনাইদহ : আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট চক্র। ঈদের আগে বাজারে লেনদেন বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব চক্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালনোট তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। ইতোমধ্যে আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
জানা গেছে, জালনোটের কারবার এখন আর পাড়া-মহল্লার মধ্যে সীমাব্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলছে এ টাকার রমরমা ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে খোলা হয়েছে শতাধিক পেজ। এসব পেজে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরণের অফার। লোভনীয় এসব অফার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব নকল টাকা। একলাখ টাকার জালনোট বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সবধরণের নোট সরবরাহ করছে চক্রটি। এসব টাকার নোট এতটাই নিখুঁত যে সহজে আসল নকল বোঝার উপায় থাকে না।
সূত্র জানায়, অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার লোভে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। ঈদের আগে পোশাক, খাদপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা বেড়ে যায়। এই সময়টিকে লক্ষ্য করে কাপড় বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে লেনদেনের সময় জালনোট চালানোর ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের তাড়াহুড়োকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জালনোট চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
শহরের কেপি বসু সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এক ব্যক্তি দোকানে এসে ৭ হাজার টাকার মূল্যের দুইটি শাড়ি কেনেন। সবগুলোই নতুন টাকার নোট দেন। পড়ে ওই ব্যক্তি চলে গেলে জানতে পারি ৭ হাজার টাকার মধ্যে ৪ হাজার টাকায় জালনোট দিয়েছে।’
পায়রা চত্ত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কাওসার আলী বলেন, ‘ইফতারের অল্পকিছু সময় আগে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফল কিনতে আসে। তাঁরা ২ হাজার ৫০০ টাকার ফল কিনে নিয়ে যায়। আড়তে টাকার দিতে গিয়ে মালিক বলেন ১ হাজার দুইটি নোট জাল। পরে বুঝতে পারি ওই যুবকেরা জাল নোট দিয়ে গেছে।’
অপরাধ বিশ্লেষক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসব এলেই জালনোট চক্রের প্রচলন বেড়ে যায়। এরা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। এতে করে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঈদের মৌসুমে প্রশাসনের নজরদারি আরো কঠোর করতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নইলে এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’
সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহের উপ-ব্যবস্থাপক বসির উদ্দিন বলেন, ‘আসল টাকার নোট শনাক্ত করার জন্য কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট রয়েছে। জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও রং পরিবর্তনশীল কালি। এসব বৈশিষ্ট যাচাই করলে জালনোট শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে ঈদের বেচাকেনার সময় ব্যবসায়ীরে হাতে সময় কম থাকে। এজন্য কাস্টামরাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি দক্ষ লোক দিয়ে করতে হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেহেদি ইমরান সিদ্দিকি বলেন, ‘জালনোট কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সাইবার মনিটিরং টিম জালনোটের বিজ্ঞাপনদাতাদের বিষয়ে অনলাইনে কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতারক চক্রের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরণের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
(এইচআর/এসপি/মার্চ ১৫, ২০২৬)
