ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থদের ঈদ উপহারের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ 

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৯:০৮:২৭
টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থদের ঈদ উপহারের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহোরের ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম করে কম চাল দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। আবার চৌকিদারের মাধ্যমে চাল নেয়ার খবর দেওয়া হলেও অনেকে চাল পাননি।

সরজমিনে কয়েকজন উপকারভোগীর চাল মেপে দেখা যায়, ১০ কেজির স্থলে ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ৯ কেজি ২০০ গ্রাম চাল দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তাদের ৭০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। আর চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হোসেন আলী মিয়ার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেথানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে গণমাধ্যম কর্মীরা তাকে ফোন দিলে দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদে আসেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সুত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ টি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৭৩০ দু্স্থ ও হতদরিদ্র পরিবারকে ঈদ উপহার বিতরণের জন্য সরকার ১০ কেজি করে মোট ১৭ টন ৩০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ চাল টুঙ্গিপাড়া খাদ্য গুদাম থেকে ডিও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। এখন বিতরণ করা হচ্ছে বলে ওই কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে।

পাটগাতী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ববিতা, মিরা বাড়ৈ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজা সহ আরো অনেকে বলেন, পরিষদের ভিতরে একটা কক্ষে বালতিতে অন্দাজে করে ব্যাগে চাল ভরে দেওয়া হয়েছে। এখানে চাল পরিমাপের কোন মিটার বা স্কেল নেই। কিন্তু ঠিক কতটুকু দিচ্ছে বা বেশি না কম দিচ্ছে তাতো বুঝতে পারিনি। বাইরে এসে মেপে দেখছি আমাদের ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম চাল কম দেওয়া হয়েছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভ্যান চালক জাহিদ শেখ বলেন, শনিবার রাতে আমার বাড়িতে চৌকিদার গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে বলেছে তোমার মাল আছে, কাল সকালে গিয়ে নিয়ে এসো। কিন্তু পরিষদে গিয়ে জাহিদ মেম্বারের কাছে চাল চাইলে বলে তোমার নাম নাই। পরে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকে বারবার যাওয়ার পরেও বেয়াদব বলে বের করে দিয়েছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের পাশের মুদি দোকানদার রাজীব শেখ বলেন, পরিষদ থেকে চাল নিয়ে এসে আমার দোকানে ডিজিটাল মিটারে কয়েকজন ব্যক্তি চাল মেপে দেখে প্রতি ব্যাগে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম কম। যেখানে হতদরিদ্র পরিবার প্রতি সরকার ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে। এত কম দেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এবিষয়ে কোন ইউপি সদস্য গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তবে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস দাবি করেছেন চাল বিতরণে অনিয়ম বা ওজনে কম দেওয়া হয়নি। হয়তো ২০০-৩০০ গ্রাম কম থাকতে পারে, কিন্তু ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম কম হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হোসেন আলী মিয়া কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে সংবাদ না করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলমের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছেন বলে জানান অফিসের কর্মচারীরা। এ কর্মকর্তার মোবাইলে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এসব কারণে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(টিবি/এসপি/মার্চ ১৫, ২০২৬)