ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ফরিদপুরে রাজু হত্যা

ছোট ভাইয়ের পরিকল্পনায় খুন, ৮ আসামি গ্রেফতার

২০২৬ মার্চ ১৬ ১৭:৪৭:৩০
ছোট ভাইয়ের পরিকল্পনায় খুন, ৮ আসামি গ্রেফতার

দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ১ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন স্টেশন মাছ বাজার এলাকার একটি মাংসের দোকানের সামনে রাজু শেখের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত রাজু শেখ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সংক্রান্ত লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, নিহতের ছোট ভাই ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে ইব্রাহিম ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজুর অবস্থান নিশ্চিত করে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার দিন হৃদয় রাজুকে ডেকে আনে এবং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অন্যরা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঢাকা ও বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে যায়। গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ পাবনার সাঁথিয়া থানা এলাকা এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ মার্চ রাতে কোতয়ালী থানার হাবেলী গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমির হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, টিআই খুরশিদ প্রামাণিকসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

(ডিসি/এসপি/মার্চ ১৬, ২০২৬)