প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
‘দিনাজপুরে কৃষিনির্ভর মিলকারখানা গড়ে তুলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে’
২০২৬ মার্চ ১৬ ২০:২১:৫৪
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর আমার নানির বাড়ি এলাকা। এখানে আমার শৈশব কেটেছে। অনেক স্মৃতি রয়েছে এ জেলাকে ঘিরে। দিনাজপুর কৃষিপ্রধান এলাকা। এই এলাকায় কৃষিনির্ভর মিলকারখানা গড়ে তুলোর কাজ চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’
আজ সোমবার বিকেলে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সূধিজন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের পূর্বে সূধি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা। আমরা উত্তরাঞ্চল থেকে কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেখানে কৃষকদের সন্তানরা চাকুরি পাবেন।
তিনি আরও বলেন, খাল কাটার কাজ শুরু করেছি। আগামী মাস থেকে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্য কৃষকরা কার্ড পাবেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু। আমরা কৃষকদের বন্ধু। কৃষক, কৃষানি ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। তাই তাদের ভালো রাখতে চাই। দেশের কৃষকদের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর রাখতে চাই।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল খনন পরবর্তী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্যরা। সমাবেশে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ। যেই কাজ করলে সাধারণ মানুষ খুশি হয় আমরা সেই কাজ করি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাহাপাড়া খাল খনন শুরু হলো, খালটি ১২ কিলোমিটার খনন শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। এই খাল থেকে পানি নিয়ে কৃষকরা ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে। সুবিধার আওতায় আসবে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় এই এলাকার কৃষকরা যে ফসল উৎপাদন করছে, তার থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এই খালের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণসহ ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। খাল খনন শেষ হলে আমি আবার পুনরায় দেখতে আসবো।
এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে তাহলে কৃষক বাঁচবে, তাহলেই দেশ বাঁচবে। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। নদীও ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার মৌসুমের অনেক খরা হয়, পানি পাওয়া যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিতে কাজে ব্যবহার করতে চাই। আমরা এমনভাবে পানি ব্যবহার করতে চাই, যাতে করে সমগ্র এলাকার মানুষ উপকার পায়। আজকে খাল খনন শুরু করলাম। আগামী ৫ বছর সমগ্র দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। উজান থেকে যখন পানি আসে তখন নদীর পাশের মানুষ ও পশুর ক্ষতির পাশাপাশি ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়। তাই খাল খননের মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ থামাতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিল শেষে সৈয়দপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানে ফেরার আগে দিনাজপুর শহরে শেখ ফরিদ কবরস্থানে নানা-নানি ও খালাসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন।
(এসএস/এসপি/মার্চ ১৬, ২০২৬)
