ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সড়কমন্ত্রীর পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা পরিদর্শ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের চাপ কিছুটা বেড়েছে

২০২৬ মার্চ ১৭ ১৮:১৬:২৩
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের চাপ কিছুটা বেড়েছে

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। তবে তা যাত্রীদের ঢল নামার মত কিছু দেখা যায়নি। গাড়ীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু যানজট পড়ার মত তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

আজ মঙ্গলবার সকালে মাওয়া টোল প্লাজায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণবঙ্গমুখী যানবাহনের কিছুটা চাপ রয়েছে। ডানবাহনের সামান্য লাইনও রয়েছে। তবে গাড়ীগুলো টোল দিয়ে সাথে সাথেই চলে যাচ্ছে। এতে সহজেই টোলপ্লাজায় যানবাহন মুক্ত হচ্ছে। আর অল্প কিছু সময়ের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে টোল বুথগুলো। আবার গাড়ী আসলেই সাথে সাথে টোল দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। তবে একসাথে কিছু সংখ্যক গাড়ী আসলে টোলপ্লাজার সামনে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হলেও তা কিছুক্ষনের মধ্যে যানজট মুক্ত হচ্ছে। এভাবে সকাল থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নাড়ীর টানে বাড়ি ছুটে চলেছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু দুপুরে পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শকালে তিনি টোল ব্যবস্থা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, মাত্র ৯ সেকেন্ডের মধ্যেই টোল দিয়ে গাড়ীগুলো পার হতে পারছে, এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছেনা টোলপ্লাজায়। তাছাড়া মোটর সাইকেলের জন্য এ বছর ৪টি লেন তৈরী করা হলেও তার দরকার হচ্ছেনা। মাত্র দুটি লেন দিয়েই মোটর সাইকেল নিবিঘ্নে পারাপার করা যাচ্ছে। দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবারের ঈদ যাত্রা যাত্রীদের জন্য যানজট বিহীন হবে বলে মনে করছি।

এ প্রসঙ্গে মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই জিয়াউল হক জিয়া বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিছুটা অতিরিক্ত গাড়ীর চলাচল রয়েছে। তবে তা সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। আশা করছি ততটা যানজটের সৃষ্টি হবেনা এবারের ঈদ যাত্রায়। কারণ দীর্ঘ ছুটি থাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষজন ধাপে ধাপে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছে। তাই একসাথে লোকজন না ছুটায় যানবাহনের ততটা চাপ নেই।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর পদ্মা সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শন

এদিকে সেমাবার সন্ধ্যায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মাওয়া পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা পরিদর্শণ করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট প্রবণ ২৬০টি স্থান চিহ্নিত করে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও সড়ক বিভাগ।

মন্ত্রী জানান, ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সেই প্রস্তুতি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা দেখতে তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। গতকাল রাত (রবিবার) থেকেই গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোথাও তেলের সংকট নেই। কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ও পরে মোট আট দিন সড়কে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে। সড়ক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।

এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(এমকে/এসপি/মার্চ ১৭, ২০২৬)