ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

গোলাগুলি-অগ্নিসংযোগ

ঈশ্বরদীতে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৩০

২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:২২:০৮
ঈশ্বরদীতে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৩০

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও বহিস্কৃত বিএনপি গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোলাগুলি, অফিস ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট, পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে।

থানা ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে চাঁদরাতে হাবিব গ্রুপের কর্মীরা মেহেদী হাসান গ্রুপের পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনার জেরে আব্দুলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। পরে তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে একপর্যায়ে মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চেষ্টা চালালেও তা একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং তার সমর্থকদের অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক ছাত্রনেতা ও নির্বাচনী সমন্বয়ক মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রকি, ছাত্রনেতা নুরে আলম শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামসহ আরও অনেকে। তারা হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মী।

অন্যদিকে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তারা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।” ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

(এসকেকে/এসপি/মার্চ ২৪, ২০২৬)