ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত

নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে বিমান ও জরুরি যানবাহনের সংঘর্ষে পাইলট-কো-পাইলট নিহত

২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:২৭:২৩
নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে বিমান ও জরুরি যানবাহনের সংঘর্ষে পাইলট-কো-পাইলট নিহত

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি বিমানের সঙ্গে জরুরি সেবার গাড়ির সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিউ ইয়র্কের দমকল বিভাগ জানায়, রবিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটের পর কুইন্স-এর এই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সূত্র অনুযায়ী, এয়ার কানাডা-এর একটি ফ্লাইট অবতরণের শেষ পর্যায়ে ছিল, তখন রানওয়েতে থাকা পোর্ট অথরিটির একটি ফায়ার ট্রাকের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পোর্ট অথরিটির দুই পুলিশ সদস্য একজন সার্জেন্ট ও একজন অফিসার হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানে মোট ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে এক ডজনের বেশি যাত্রী বিভিন্নভাবে আহত হন এবং তাদের এলমহার্স্ট হাসপাতাল কেন্দ্র ও নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জ্যাজ এভিয়েশন এয়ার কানাডা এক্সপ্রেস ফ্লাইট ৮৬৪৬মন্ট্রিয়াল থেকে যাত্রা করেছিল। রানওয়ে ৪-এ প্রায় ৩০ মাইল গতিতে চলার সময় এটি ফায়ার ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়, যা অন্য একটি বিমানের জরুরি পরিস্থিতির সাড়া দিতে যাচ্ছিল।

দুর্ঘটনার আগে রেডিও বার্তায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে ফায়ার ট্রাকটিকে থামতে নির্দেশ দিতে শোনা যায়: 'স্টপ, স্টপ, স্টপ…'—কিন্তু তার আগেই সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার পর বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) জানায়, সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড ও এফএএ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে প্রায় ৩ মাইলে নেমে এসেছিল, তবে আবহাওয়া এ ঘটনার জন্য দায়ী কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল: এফএএ-এর গাফিলতির অভিযোগ নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিদর্শক জেনারেল মেরি শিয়াভো। তিনি এর জন্য ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) -এর দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন।

সোমবার তিনি বলেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, রানওয়েতে নামার অনুমতি পাওয়ার পরও একটি ফায়ার ট্রাককে একই রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া ছিল 'স্পষ্ট ভুল'।

দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত প্রায় মধ্যরাতে, যখন মন্ট্রিয়াল থেকে আসা এয়ার কানাডা-এর একটি আঞ্চলিক জেট, যা জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত ছিল, রানওয়ে ৪-এ একটি ফায়ার ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ফায়ার ট্রাকটি অন্য একটি বিমানের ঘটনার সাড়া দিতে যাচ্ছিল। এই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হন এবং অন্তত ৪১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, যাদের মধ্যে উদ্ধারকাজে থাকা দুই পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন। তবে শিয়াভো এই ঘটনাটিকে আগের একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে আমেরিকান এয়ারলাইন্স -এর একটি বিমানের সঙ্গে সামরিক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই ঘটনাটিও এফএএ-এর 'দায়িত্বে অবহেলা'-র ফল ছিল এবং এখানেও একই ধরনের গাফিলতি থাকতে পারে।

(আইএ/এসপি/মার্চ ২৪, ২০২৬)