ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরায় শিশু রিয়ান হত্যা, দুই মাসেও কোন অগ্রগতি নেই

২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:৫৪:০১
সাতক্ষীরায় শিশু রিয়ান হত্যা, দুই মাসেও কোন অগ্রগতি নেই

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদরের আখড়াখোলা গ্রামের প্লে শ্রেণীর পড়ুয়া সেহজাদ হোসেন রিয়ান হত্যা মামলায় গত দুই মাসেও কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এ মামলায় ন্যয় বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা করছেন মামলার বাদি।

মামলার বাদি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন জানান, তার ছেলে আলহ্বাজ্ব সোয়েব হোসেন প্রিক্যাডেট স্কুলে প্লে শ্রেণীর পড়ুয়া সেহজাদ হোসেন রিয়ান (৬) গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে তার নানা মুকুন্দপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। ২৫ জানুয়ারি সকালে তার মামা মেহেদী হাসানের মাছের ঘের থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে ২৬ জানুয়ারি থানায় হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই তারা রিয়ানকে বাইসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সিসি টিভি ফুটেজসহ মটর সাইকলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার বাস্তবসম্মত তথ্য পুলিশসহ ছায়া তদন্তকারি কর্মকর্তাদের দেন। সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে পরদিন একই এলাকার আহাদুজ্জামান ও আবু তালেবের ছেলে রাকিবকে পুলিশ আটক করে। পরদিন রাকিবকে তার বাবা গ্রাম পুলিশ আবু তালেব মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

আহাদুজ্জামানকে আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ তার কাছ থেকে কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেননি বলে জানান। রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারক বিলাস মন্ডল মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সুশান্ত ঘোষের কাছে আসামী ধরা সংক্রান্ত কোন সিডি না থাকায় তাকে ভৎসনা করেন। এছাড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ঘটনাস্থলে স্কেচ ম্যাপ তৈরি করতে গেলে তদন্তকারি কর্মকর্তাকে হুমকি ধামকিও দেয় আসামীর লোকজন। ফলে তিনি এ মামলার তদন্তভার অন্য কোন সংস্থার কাছে নেওয়ার জন্য তাকে (বাদি) আদালতে আবেদন করতে বলেন।

এদিকে নিহত রিয়ানের নানা মতিয়ার রহমান বলেন, তার ঘেরে কিছুদিন নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতো গ্রেপ্তারকৃত আহাদুজ্জামান। এ সময় তার ঘেরে ৩৫ হাজার টাকার মাছ চুরি হয়। চুরির সঙ্গে আহাদ জড়িত ছিল এটা নিশ্চিত হয়ে তার বেতন বাবদ তিন হাজার টাকা বকেয়া ছিল। এ টাকা পেতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে আহাদুজ্জামান টাকার দাবিতে তাকে হুমকি দেয়। টাকা না দিলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করা হয়। আহাদুজ্জামান ছাড়াও তাকে হুমকি দেয় ও আসাদুজ্জামানের ছেলে ভাটা শ্রমিক শফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের সামছুদ্দিনের ছেলে মাসুদ (আহাদুজ্জামানের চাচাত মামা), গোলাম মাহদুদের ছেলে হাসিব ও আবু তালেবের ছেলে রাকিব। রিয়ানের লাশ উদ্ধারের পরপরই শফিকুল, হাসিব, মাসুদ আত্মগোপন করে। ওইসব আত্মগোপনকারিসহ আহাদুজ্জামান ও রাকিব তার নাতি রিয়ান হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তিনি আশঙ্কা করলেও ঘটনার দুই মাস পার হলেও পুলিশ তাদের টিকি স্পর্শ করতে পারেনি।

এদিকে মামলা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ মামলার তদন্তভার অন্য সংস্থার কাছে নেওয়ার জন্য বাদিকে আদালতে আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের করতে গেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ঘুরে আসতে হয় তাই তিনি দ্রুত করার জন্য বাদিকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তবে মামলার অগ্রগতি না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ময়না তদন্তে পানিতে ডুবে রিয়ানের মৃত্য হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না । তাই তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই অন্য কাউকে গ্রেপ্তার না করে গোপনে তদন্ত করে যাচ্ছেন।

(আরকে/এসপি/মার্চ ২৪, ২০২৬)