প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত
মুন্সীগঞ্জে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, ১১ জনের শরীরে শনাক্ত
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৮:৩২:২২
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে হাতের প্রকোব বৃদ্ধি পেয়েছে। হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় এলাকাবসী চিন্তিত হয়ে পড়েছে। ইরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন হামের রোগী ভর্তি রয়েছে বলে হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় মোট সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৪৭ জন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া এপিডেমিওলজিক্যালি (Epi-linked) আরও ১৫ জনকে পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন রোগী ভর্তি থাকলেও, বাকিরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাববধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য একটি বিশেষ কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পাঁচটি বিশেষ বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, আক্রান্ত রোগীদের সেবা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়।
রুবেলা ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত হলে শিশু এর বাইরেও নানা রকম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমিত হয়। হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে।
এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে ভিটামিন এ-এর মজুত মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে শিশুর চোখের পানি কমে যায় বা চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এ থেকে রাতকানা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর কানপাকা, মুখে ঘা, মারাত্মক অপুষ্টি, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ আরও অনেক রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। হাম খুবই ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই হামের ভাইরাস আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে এটি এলাকাজুড়ে ছড়াতে পারে।
(এমকে/এসপি/মার্চ ৩০, ২০২৬)
