ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শহীদ রুমীর জন্মবার্ষিকী ও বীরত্বগাথা স্মরণ

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫২:৩৪
শহীদ রুমীর জন্মবার্ষিকী ও বীরত্বগাথা স্মরণ

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : নীলফামারীর নিভৃত গ্রাম খাটুরিয়া থেকে একদা এক প্রাণচঞ্চল শিখা জ্বলে উঠেছিল। সেই শিখা সময়ের পাণ্ডুলিপিতে 'শহীদ শাফী ইমাম রুমী (বীর বিক্রম)' নামে সোনাঝরা অক্ষরে লেখা হয়েছে। একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যে তরুণ বুকের তাজা রক্তে স্বাধীনতার স্বপ্ন এঁকেছিলেন, তাঁর ৭৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হলো। এই পবিত্র লগ্নে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষ এক অপার্থিব আবেগে ভরে উঠেছিল। সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের আয়োজনে আয়োজিত কর্মসূচিতে যেন শহীদ রুমীর অতৃপ্ত আত্মা ভেসে বেড়াচ্ছিল। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র, ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেও যেন নিজের মাটির প্রতি এক অদৃশ্য টান অনুভব করতেন।

সেদিনের সেই গেরিলা যোদ্ধা, যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর বীরত্বগাথা আজ প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে অনুরণিত হচ্ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সভাপতি ছিলেন কবি সালেম সুলেরী, যিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে শহীদ রুমীর স্মৃতিকে জাগ্রত করার এই মহতী উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।

শহীদ রুমীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করার সময় মনে হচ্ছিল, যেন সময়ের চাকা পিছিয়ে গেছে। সেই দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প, সেই আত্মত্যাগের বিবরণ, সেই অকালমৃত্যুর শোক—সবকিছু যেন এক লহমায় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদার রহমান, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস হোসেন, শমসের আলী, মো. রবিউল ইসলাম, জসিয়ার রহমান, কানাডাপ্রবাসী সংস্কৃতিসেবী শেরিনা শরিফের বক্তব্যে শহীদ রুমীকে স্মরণ করেছেন।

শহীদ রুমীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তাঁর নামে নামকরণের দাবি যেন সেই বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। শেষে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে শহীদ রুমী (বীর বিক্রম) সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, যেন শহীদ রুমী নিজেই সেই স্মারক মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

এর আগে সেখানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শহীদ রুমীর আত্মার শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। শহীদ শাফী ইমাম রুমী আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে, তাঁর দেশপ্রেম আমাদের পথ দেখাবে। হে বীর, তোমার এই মহান আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। তোমার স্মৃতি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত থাকবে।

নীলফামারীর ডোমারে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শাফী ইমাম রুমীর (বীর বিক্রম) ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসব কর্মসূচির আয়োজন করে সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংক।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন শহীদ শাফী ইমাম রুমী। ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন শহীদ রুমী। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর তাঁর আর কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁর বাবা শরীফ ইমাম ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
শহীদ রুমীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাদা-কালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কবি সালেম সুলেরী। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার।

শহীদ রুমীর বীরত্বগাঁথা জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদার রহমান, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস হোসেন, শমসের আলী, মো. রবিউল ইসলাম, জসিয়ার রহমান, কানাডাপ্রবাসী সংস্কৃতিসেবী শেরিনা শরিফ, সাংবাদিক আনোয়ারুল আলম প্রধান প্রমুখ।

সভায় ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত শাফী ইমাম রুমীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তাঁর নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়। পরে সেখানে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে শহীদ রুমী (বীর বিক্রম) সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সেখানে দোয়া মাহফিল হয়।

(ওকে/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)