প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের ‘হাম’ পরিস্থিতি বেশ ভালো, রয়েছে পর্যাপ্ত টিকা
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫৬:০৭
শেখ এনামূল হক বিদ্যুৎ, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে হাম পরিস্থিতি ভালো। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কোনো হামের রোগি আসেনি। ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ শিশু রোগি আসে। এর মধ্যে ২-৩ জন হামের রোগি। যারা হাসপাতালে ভর্তী করার মতো না। নারায়ণগঞ্জে টিকার কোনো সংকট নেই। তারপরেও হামের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিতে নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
গত সোমবার দুপুর দুইটায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সেখানে পাঁচজন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের একজন সাড়ে ছয় বছরের, নাম ভূমি দাস। তার মা জ্যোতি দাস জানালেন, তার মেয়ের নিউমোনিয়া হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে সে কিছু খেতে চাচ্ছিলো না। জোর করে খাওয়ালে বমি করে দিচ্ছিলো। সোমবার সকাল এগারোটায় তাকে হাসপাতালে ভর্তী করার পরে স্যালাইন ও মুখে খাওয়ার ওষুধ দেয়া হয়। ফলে দুপুরে সে নিজে থেকে খেতে চাচ্ছে। পাশের বেডের পাঁচ বছরের নূর মোহাম্মদ ইরামের প্রচুর এলার্জী হয়েছিলো। হাম সন্দেহে গত শনিবার হাসপাতালে আনেন ইরামের দাদী আলেয়া বেগম। তবে ডাক্তাররা তার হাম না বরং এলার্জী দেখে হাসপাতালে ভর্তী নেন। সে এখন অনেকটাই ভালো।
এ হাসাপাতালের আর এম ও জহিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে তারা এখনো হাম-রুবেলার কোনো রোগী পাননি। এ ধরনের রোগী পাওয়া গেলে আইসোলেশন করে ভর্তী করা হবে। সে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে বেশ কিছু টিকা দেয়া হয়। এর মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের টিকা ওপিভি’র সংকট রয়েছে তাদের। তবে ছয়টি রোগের দশটি টিকা তথা হাম, নিউমোনিয়া, টিটেনাস, যক্ষা, পোলিও, শিশুদের পেন্টা টিকাসহ অন্য টিকাগুলির কোনো সংকট নেই। এছাড়া এই হাসপাতালে কখনোই এসব টিকার কোনো সংকট ছিলো না। নিয়মিত এসব টিকা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের আরেকটি বড় হাসপাতাল নগরীর খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ তিনশত শয্যা হাসপাতাল। এ হাসপাতালের সুপারইনটেনডেন্ট মোঃ আবুল বাশার জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১২ বছরের নিচের ৫০০ থেকে ৬০০ শিশু রোগী চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে প্রতিদিন ২-১ জন হামের রোগী আসে। কিন্তু ভর্তী হওয়ার মতো সিরিয়াস কোনো রোগী আসেনি। তারপরেও আমরা চারটা বেড রেডি রেখেছি। যদি কোনো রোগী আসে আমরা আইসোলেট করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনশ শয্যা হাসপাতালে টিকা কেন্দ্র থাকলেও সেটি পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ নাফিয়া ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন যে টিকা কেন্দ্রগুলি পরিচালনা করে সেখানে কোনো টিকার সংকট নেই। বিশেষ করে হাম-রুবেলার টিকা নারায়ণগঞ্জে নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। এগুলির কখনো সংকট ছিলো না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের আওতাধীন জেলার চারটি থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও তিনটি হাসপাতালে এখনো কোনো হাম রুবেলার রোগি ভর্তী হয়নি বলে জানালেন জেলা সিভিল সার্জন ডঃ এ এফ এম মুশিউর রহমান। তিনি জানান, ঢাকার দুইটি শিশু হাসপাতালে দুইজন শিশু মারা গেছে যাদের ঠিকানা দেয়া হয়েছিলো রুপগঞ্জের চনপাড়া ও মুড়াপাড়ায়। তারা নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা না। তাই আমরা যে ঠিকানা দেয়া আছে সে ঠিকানার চারদিকে দু’শ থেকে তিনশ পরিবারের শিশুদের টিকা দিয়ে দিচ্ছি সতর্কতা হিসেবে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় টিকার কোনো সংকট না থাকলেও হামের এডিশনাল ক্যাম্পেইন সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ ছিলো।
(এবি/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)
