ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৮:০৫:৫৩
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী শিমলার আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি এখন দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমল দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও মানসিক চাপের কারণে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমলা। শিমলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সিপি রোড়স্থ বাবার বাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন শিমলা। বর্তমানে শিমলা দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠবেন।'

খাদিজার পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই থেকেই তার স্ত্রী খাদিজা হাকিমপুর উপজেলা শহরের সিপি রোড এলাকায় বাবা বাবু মল্লিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন শিবলী সাদিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।

আত্মহত্যার চেষ্টার আগে খাদিজা তার নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তার ওপর হওয়া অন্যায়ের অভিযোগ লিখেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি যথেষ্ট শক্ত ছিলাম, কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় ও জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকেই এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’

পোস্টে তিনি স্বামী শিবলী সাদিকসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, তার এই পরিণতির জন্য তারাই দায়ী।

নিজের মেয়ের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘স্নেহা, তোমার জন্য আমার দোয়া রইল। তুমি আমার জন্য যথেষ্ট লড়েছো।’

মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে,তার এই সিদ্ধান্ত ভুল হলেও পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন খাদিজা। অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। এই সময়ে খাদিজা তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
সোমবার বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর স্ট্যাটাস দেন খাদিজা মল্লিক সীমু।

সেখানে তিনি দীর্ঘ ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে জানান, বিয়ের মাত্র ২-৩ মাস পর থেকেই তিনি অবিরাম জুলুম ও অন্যায়ের শিকার হচ্ছিলেন।

স্ট্যাটাসে খাদিজা লিখেছেন, ‘আমি যথেষ্ট স্ট্রং ছিলাম! আল্লাহর প্রতি আমার অনেক ভরসা রয়েছে! কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। এই জীবন এভাবে চলতে পারে না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকে এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’

মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত সীমু তার এই চরম পরিণতির জন্য সরাসরি স্বামী শিবলী সাদিক, তার কথিত বান্ধবী ববি ইসলাম এবং শামীমসহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি লিখেন, ‘আমি যদি হেরে যায়, আমার হয়ে তোমরা তো সব জানো, সব প্রমাণ তোমাদের কাছেও আছে। তোমরা শিবলী সাদিক...ছেড়ো না, আমার সাথে হওয়া অন্যায় আমি আর মানতে পারছি না। কেউ যদি আমাকে ভালো না বাসে, আমি সেই ধরনের মেয়েই না যে তার কাছে ভালোবাসা ভিক্ষে চাইব, কিন্তু আমার সাত বছরের এফোর্টকে ঐ...শিবলী বলে, আমি মন থেকে করিনি বা যা করেছি এটা আমার দায়িত্ব।’

তিনি অভিযোগ করেন, শিবলী সাদিক একজন ‘নার্সিসিস্ট’ বা আত্মকেন্দ্রিক মানুষ, যিনি কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পটু।

ববি ইসলাম নামের এক নারীর সঙ্গে শিবলীর অবৈধ সম্পর্কের দাবি করে তিনি জানান, ওই নারীকে বিরামপুর মহিলা কলেজের পেছনে বাড়ি করে দেওয়া এবং বিদেশে পালানোর ক্ষেত্রেও শিবলী সহায়তা করেছেন। নিজের দীর্ঘ চেষ্টার মর্যাদা না দিয়ে শিবলী সেগুলোকে কেবল ‘দায়িত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় সীমু চরমভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি তার কন্যা স্নেহার জীবন নষ্ট করার পেছনেও স্বামীর দায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছেন, তার এই আত্মহননের সিদ্ধান্তটি ভুল হলেও প্রভাবশালী স্বামীর অর্থবিত্তের কাছে বিচার পাবেন না বলেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করেছেন যেন তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ তাদের কাছে গচ্ছিত আছে বলেও জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বিয়ে হয়। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বনিবনা না হওয়ায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে সমঝোতার মাধ্যমে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। ২০১৯ সালে তিনি খাদিজার সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

(এসএস/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)