প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
অস্ত্র মামলায় ডাকাত সর্দার ইয়ার আলীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৮:৩৪:০৯
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : অস্ত্র মামলায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোঃ সরোয়ার হোসেনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানী শেষে সাতক্ষীরার আমলী আদালত- ২ এর বিচারক অর্পিতা আক্তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়াও তাকে মাদক, ছিনতাই ও কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া খাতুনকে পরিষদের মধ্যে হামলা ও তার মামার কাছে দুই লাখ টাকা না পেয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ইয়ার আলী (৪৪) কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে।
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলীকে গত ২৭ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার নিজ গ্রাম কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম শংকরপুর থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া প্রায় একই সময়ে তার স্বীকরোক্তি মোতাবেক তারই সহযোগী বেনাদোনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কৃষ্ণনগর গ্রাম থেকে একটি মটর সাইকেল ও ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা র্যাব-৬ এর সিপিএ মোঃ মুনসুর আলী বাদি হয়ে গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীর নাম উল্লেখ করে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে কালিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার উভয়পক্ষের শুনানী বিচারক অর্পিতা আক্তার তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের উপপরিদর্শক মাজেদুর রহমান। আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. অনুপ কুমার কর্মকারসহ চারজন।
আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৭ মার্চ ইয়ার আলী ও বেনাদনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলের কাছ থেকে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ২৮ মার্চ উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদি হয়ে তাদের নাম উল্লেখ করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শেখ মহিদ বিল্লাহ’র আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ইয়ার আলীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে গত ৮ মার্চ বিকেলে কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় পশ্চিম মৌতলা গ্রামের বিকাশ এজেন্ট মোকলেছুর রহমানের মাথায় রড দিয়ে মাথা ফাটিয়ে তিন লাখ ১১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারই দায়েরকৃত ১০ মার্চের দস্যুতার মামলায় ইয়ার আলী, পলাশ তরফদার, বিল্লাল গাজী ও আলোক গাজীকে পলাতক দেখানো হয়। তবে এজাহার বহির্ভুত কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল হক সরদারের ছেলে শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে শিমুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে গত রবিবার শুনানী শেষে বিচারক অর্পিতা আক্তার তাকে কারাফটকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। একইভাবে গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীকে ওই মামলার প্রধান আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানালে মঙ্গলবার বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এছাড়া দাবিকৃত দুই লাখ চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কৃষ্ণনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ইয়ার আলী, তার ছেলে হৃদয় হোসেন, ভাই বাহার আলীসহ আটজন ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর আটকে রাখে। বিষয়টি মামা রফিকুল ইসলামের ফোন থেকে ভাগ্নি সাফিয়া খাতুনকে ফোন দেওয়া হয়। রাত সাড়ে সাতটার দিকে ইয়ার আলীর নেতৃত্বে আটজন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে হামলার চেষ্টা করে। যদিও এর আগেই পরিষদ থেকে আত্মগোপন করতে সমর্থ হন সাফিয়া। এ ঘটনায় গত বছরের ১২ নভেম্বর ইয়ার আলীসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করলে মঙ্গলবার বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাহাবুবর রহমান শুনানী শেষে ইয়ার আলীকে সাত দিনের রিমা- মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতের গারদখানা থেকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হবে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, ইয়ার আলীকে কালিগঞ্জ থানার আরো তিনটি মামলায় মঙ্গলবার আদালত থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(আরকে/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)
