প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
হামে আক্রান্ত ৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর বাড়িতে চিকিৎসক দল
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৮:৫৪:২৮তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : হামের উপসর্গ নিয়ে গোপালগঞ্জে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আজ মঙ্গলবার চিকিৎসক দলের সদস্যরা মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামে মৃত শিশুর বাড়িতে যান। তারা শিশুটির পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলেছেন। চিকিৎসক দলটি ওই পরিবারের খোঁজ খবর নেন। এছাড়া হাম সম্পর্কে স্থানীয় সবাইকে সচেতন করতে দলটি বিভিন্ন পরামর্শ দেয়।
এ সময় মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, মেডিকেল অফিসার ডা. দ্বীপ সাহা, গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যারয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দীবাকর বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গোপালগঞ্জের হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৬ শিশু ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক।
গত ২৭ মার্চ হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের তুবা ইসলাম তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার মালিবাগে বিএনকে লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়। গত ১৯ মার্চ তার জ্বর দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ও ৪ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেন। সেখানে তিনি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা ডা. রায়হান ইসলাম শোভনকে প্রধান করে মুকসুদপুর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেন।
সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘‘আমি চিকিৎসকদের একটি দল নিয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সথে কথা বলেছি। আশপাশের কয়েকটি এলাকার তালিকা আমরা করছি। যারা হামের টিকা পায়নি, তাদের টিকা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া জেলা ও উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্বরে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘সম্ভব্য হামে আক্রান্ত ৬ শিশু গোপালগঞ্জের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমরা আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করেছি । গুরত্বের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তির পরে তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা বেশ ভাল আছে। আর যে শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, তার ব্যাপারে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। কারণ শিশুটি ৫ দিনে আগে মারা গেছে। তার নমুনা সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে, এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’’
গোপালগঞ্জে হামসহ সব ধরনের রোগের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়ে সিভিল সার্জন আরো বলেন, জেলার সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এছাড়া এদিন গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও রোগীর স্বজন সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কখা বলেন। হাম সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করেন। এ সময় মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির সহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
(টিবি/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)
