ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত

বিতর্কিত বক্তব্যের জের

অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৭:৪৫:৩০
অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : ইহুদিদের বিরুদ্ধে অ্যাডলফ হিটলারকে 'ঈশ্বরের শাস্তি' হিসেবে প্রশংসা করার অভিযোগে বাংলাদেশি ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। দেশজুড়ে তার নির্ধারিত বক্তৃতা সফরের মাঝপথেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেইলি মেইল প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর সামাজিক মাধ্যমে প্রায় এক কোটির বেশি অনুসারী রয়েছে এবং তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা প্রবাসী সমাজে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

‘লেগেসি অব ফেইথ’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইস্টার উপলক্ষে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিলেন। ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

সূত্র মতে, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাজ্যে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও উগ্র ঘৃণাত্মক বক্তব্যের অভিযোগে তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম জানান, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন তার অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারি ইহুদিবিরোধী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন, হলোকাস্টের প্রশংসা করেন এবং ইহুদিদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি ইহুদিদের 'বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী' এবং 'বিষাক্ত কলঙ্ক' বলেও উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, বিশ্বে নানা সমস্যার জন্য ইহুদিরা দায়ী, এমনকি এইডস রোগও তাদের তৈরি—এমন অভিযোগও তুলেছিলেন।

ডুনিয়াম বলেন, আজহারির বক্তব্য কেবল একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং একাধিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ধারাবাহিক উদাহরণ।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালে তার প্রবেশ বাতিল করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও তাকে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ সংগঠনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করে যে, আজহারির বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্র বক্তব্যকে বৈধতা দিতে পারে।

তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আজহারি বা তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

(আইএ/এসপি/এপ্রিল ০১, ২০২৬)