ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » কৃষি » বিস্তারিত

নড়াইলে রাস্তার ধারে দৃষ্টিনন্দন সজনের বাহার 

২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৯:১১:২৭
নড়াইলে রাস্তার ধারে দৃষ্টিনন্দন সজনের বাহার 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলে সড়কের পাশে পাতাহীন সজনে গাছের দীর্ঘ সারি। সেসব গাছে ঝুলে আছে সজনে-ডাঁটা। মাস দেড়েক আগে গাছে ফুল এসেছিল। ছোট সাদা গুচ্ছ গুচ্ছ সেই ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছিল প্রকৃতিতে। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই ফুল সজনে-ডাঁটায় পরিণত হয়।

নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে পতিত জায়গায় কৃষি অফিসের পরামর্শে দুই বছর আগে সজনে গাছের ডাল রোপণ করেন উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান। সেখানে মোট ১৫০টি ডাল রোপণ করেন তিনি। সেসব গাছে এখন ঝুলছে জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর খাবার সজনে-ডাঁটা।

এসব সজনে নিজের পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীর চাহিদা পূরণ করে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন শামসুর রহমান।

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করছেন শামসুর রহমান।

এসময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বছর আগে সরকারি সড়কের পাশে পতিত জমিতে ১৫০টি সজনের ডাল রোপণ করেন তিনি।

প্রথম বছরই গাছে ফুল আসে তবে আশানুরূপ সবজি বা ডাটা হয়নি। এবছর প্রত্যেক গাছে সজনে ধরেছে। এত বেশি সজনে ধরেছে যে ভারে গাছের ডাল নিচু হয়ে পড়েছে। পাতাহীন গাছে কেবল ডাঁটা আর ডাঁটা। প্রথম দিকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

এখন দাম কমছে। তবে দাম কমলেও এখন ওজন বেশি বলে তিনি জানান।

শামসুর রহমান আরো জানান, তুলারামপুর গ্রামের ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারি দামে সজনে কিনে শহরে বিক্রি করছেন।

এছাড়া, গ্রামের মানুষ সেখান থেকে কম মূল্যে সজনে কিনতে পেরে অনেক খুশি। তার লাগানো গাছে সজনে দেখে অনেকেই সড়কের পাশে সবজি লাগাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

চাচড়া গ্রামের লিপু খান বলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। এই পথ দিয়ে যাতায়াত করি। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে শজনে ডাঁটা পাওয়া যায়। আমি মাঝেমঝে এখান থেকে শজনে কিনে নিয়ে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমিও বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে কিছু সজনে গাছ লাগাবো, যাতে আর কিনে খাওয়া না লাগে।’

শামসুর রহমানের মতো অনেকেই সড়কের দুই পাশে সজনে গাছ লাগিয়েছেন। পতিত জমিতে এসব ডজনে গাছ থেকে একদিকে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে সেগুলো বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

তুলারামপুর গ্রামের টিটো রহমান বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে সরকারি রাস্তার পাশে পাঁচটি গাছ লাগায়ছিলাম। গত বছর গাছগুলোতে ভালো সজনে হয়েছিল। এবছরও গাছ সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে। পরিবারের চাহিদা পূরণের পর এই সবজি বাজারেও বিক্রি করছি।’

এদিকে, সড়কের পাশে কৃষকদের সজনে লাগানোর জন্য কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি অফিসের মাধ্যম উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পতিত জমিতে প্রায় আট হাজার সজনে গাছ লাগানো হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের সবজি সজনে। উপজেলার অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা সজনের আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে অনাবাদি জমিতে সজনের ডাল রোপণের মাধ্যমে তাদের আয় বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘গতবছর আমরা প্রায় আট হাজার গাছ লাগিয়েছিলাম। এবছরও গাছ লাগানোর প্রক্রিয়া চলমান। গত দুই বছরে যেসব সজনের ডাল রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। বাজারে এর দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। একইভাবে তারা পারিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করছেন।’

(আরএম/এসপি/এপ্রিল ০১, ২০২৬)