প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় গর্ভবতী কিশোরীর মৃত্যু, বহিষ্কারের মুখে ভারতীয় নাগরিক
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৮:০০:১৬
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে উচ্চগতির গাড়ি ধাওয়া শেষে সংঘর্ষে এক গর্ভবতী কিশোরী ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক তরসেম সিংকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডাব্লিউডিটিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে পুলিশের সঙ্গে উচ্চগতির ধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিং। ওই দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী গর্ভবতী কিশোরী অ্যাশলি হোমস এবং তার অনাগত সন্তান নিহত হন। প্রসিকিউটরদের মতে, দুর্ঘটনার সময় সিং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
২৩ মার্চ ডার্ক কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি তরসেম সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্যে রয়েছে অবহেলা ও বেপরোয়া আচরণের ফলে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, সিংয়ের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার।
তার বিরুদ্ধে দুটি করে ফৌজদারি অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর যানবাহনজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যানবাহন দিয়ে হামলা এবং পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে।
ডার্ক কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এক ডেপুটি সিংকে রেঞ্জ রোভার ভেলার গাড়িতে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে চালাতে দেখেন। তাকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও তিনি থামেননি, বরং গতি বাড়ান। এতে প্রায় পাঁচ মাইলব্যাপী পুলিশ ধাওয়া শুরু হয়, যা শেষে ওহাইও স্টেট রুট ৪৭-এ একটি জিপ চেরোকি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে শেষ হয়।
সংঘর্ষে সিডনি শহরের বাসিন্দা অ্যাশলি হোমস ঘটনাস্থলেই গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন এবং পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা গাড়ির চালক আহত হলেও সচেতন ছিলেন।
পরে সিংকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কেয়ারফ্লাইটের মাধ্যমে তাকে মিয়ামি ভ্যালি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক কাউন্টি আদালতে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন সিং, যেখানে একজন দোভাষীর সহায়তা নেওয়া হয়। বিচারক ট্রাভিস ফ্লিহম্যান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। বিচারক যখন জানতে চান তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কিনা, তখন সিং “না” বলে জবাব দেন।
অভিযোগ গঠনের পর আইসিই জানায়, সিংয়ের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে একটি আশ্রয় সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেও যুক্ত, ফলে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
(আইএ/এসপি/এপ্রিল ০২, ২০২৬)
