প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত
মাদক-জুয়া বন্ধে কঠোর নির্দেশনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১২:৫১:০১
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীসহ সারাদেশে মাদকের শ্রেণিভুক্ত সিসা লাউঞ্জ, অনুমোদনবিহীন বার ও অভিজাত ক্লাবে মাদক ও জুয়া কার্যক্রম বন্ধে জরুরি এবং কঠোর নির্দেশনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ঠিকানায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে আবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, আপনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জাতির জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আপনার এই দৃঢ় অবস্থান দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছে।কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।
ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সিসা লাউঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মাদক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত মদের বার ও অভিজাত ক্লাবের আড়ালে সিসা ব্যবসা, মাদক সেবন ও বেচাকেনা এবং জুয়া কার্যক্রম একযোগে সংঘটিত হচ্ছে, যা আইন, নৈতিকতা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
আবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ আদালত এরইমধ্যে সিসা লাউঞ্জ বন্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন, যা বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই সব আইন ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের তরুণ সমাজ একটি নীরব মাদক মহামারির ঝুঁকিতে রয়েছে। রাতের আঁধারে অভিজাত এলাকাভিত্তিক এসব সিসা লাউঞ্জে তরুণ-তরুণীরা আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ, মাদক স্পট ও জুয়ার আসর চিহ্নিত করে অবিলম্বে সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দ্রুত ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সিসার আড়ালে পরিচালিত মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদবিহীন বার, ক্লাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জুয়া ও মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলা, যোগসাজশ বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও একটি কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন করে সারা দেশে সিসা লাউঞ্জ ও মাদক কার্যক্রম বন্ধে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ০৩, ২০২৬)
