ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

দিনাজপুরে জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রি হয় ঢাকায়

২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১৭:৫৫:৩৬
দিনাজপুরে জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রি হয় ঢাকায়

শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর :দিনাজপুরে ঘোড়া জবাই করে ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি হতো গরুর মাংস বলে। এতে অনেক লাভ থাকতো সংশ্লিষ্টদের। এমনি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে দিনাজপুরে ৬ টি ঘোড়া জবাই করে ধরা পড়ার পর আটককৃতদের স্বীকারোক্তিতে।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গরুর মাংস বলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৬টি ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে আটকের পর এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ১২ মণ ঘোড়ার মাংস।

আজ শুক্রবার সকালের দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর এলাকার একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রবিউল ইসলাম, রুবেল ও আব্দুল্লাহ তিনজনকে আটকের পর প্রত্যেককে একবছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আটক রবিউল ইসলামের বাড়ি নীলফামারী,রুবেলের বাড়ি রংপুর ও আব্দুল্লাহর বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, সকালে সংবাদ পেয়ে তারা নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি সুপারি বাগানে গিয়ে দেখেন কয়েকজন ঘোড়া জবাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাংস প্রস্তুত করছে। এসময় তারা ৬টি ঘোড়ার মাংস জব্দ করে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযোগে প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা প্রায় ১২ মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, আমরা সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাই গাজীপুরে সুপারি বাগানে কয়েকজন ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করছে। সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি,কোথাও ঘোড়ার পা, কোথাও ভুঁড়ি, আবার কোথাও ঘোড়ার মাথা রাখা আছে। অসংখ্য মানুষ জায়গাটি ঘিরে রেখেছে। বিষয়টি দেখে আমরা খুব আশ্চর্য হয়ে যাই।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান,একটি অসাধু চক্র এভাবে মানুষকে কী খাওয়াচ্ছে, প্রশাসনের তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। গরুর মাংস বলে কীভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা সম্ভব, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম, রুবেল ও আব্দুল্লাহ প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে জানান, তারা দিনাজপুরে জবাই করা ঘোড়ার মাংস ঢাকায় বিক্রি করতো গরুর মাংস বলে।

ঘোড়া জবাই করে বরব দিয়ে পলিথিনে প্যাচিয়ে বস্তায় বেধে বাসের ছাদের পৌঁছে যায় ঢাকায়। পরে তা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোঁয় চাহিদা মতো পৌঁছে দেওয়া হয়। এজন্য তাদের একটি গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপে অনেকেই জড়িত আছে। শুধু দিনাজপুরেই নয়,বিভিন্ন জেলায় জবাই করা হয় ঘোড়া।আর সেই জবাব করা ঘোড়ার মাংস ঢাকায় গিয়ে হয় গরুর মাংস।

(এসএস/এসপি/এপ্রিল ০৩, ২০২৬)