ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আটক

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৭:৫৩:২১
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আটক

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলাম (৩৯)-কে আটক করেছে পুলিশ।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন আজ শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে ডা. সফিউল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও যৌন ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে অভিযুক্ত নারী। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আটক ডা. সফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস-এ ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী হাকিমপুর থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে, তার স্বামী মো. ওহেদুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার সূত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় হয়।চিকিৎসার একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে তাকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং একই দিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে তালাক দিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাকিমপুর থেকে বিরামপুর যাওয়ার পথে হাকিমপুর পৌরসভার চারমাথা মোড়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোন করে তাকে অফিসে আসতে বলেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও পশু হাসপাতাল এলাকায় গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও যৌন ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। ৪ এপ্রিল শনিবার দুপুরে তাকে দিনাজপুর পুলিশ কোডের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে দিনাজপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(এসএস/এসপি/এপ্রিল ০৪, ২০২৬)